নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসকে উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই চতুর্থ দল হিসাবে আইপিএলের প্লে-অফে পৌঁছে গেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। বুধবার (২১ মে) রাতে প্রথমে ব্যাট করে শেষ লগ্নে সূর্য কুমার যাদব ও নমন ধীরের ঝোড়ো ইনিংসের দৌলতে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তুলেছিল মুম্বই। জবাবে ১৮.২ ওভারে ১২১ রানেই গুটিয়ে গেল দিল্লি ক্যাপিটালস। মুম্বইয়ের হয়ে মিচেল সান্তনার চার ওভারে মাত্র ১১ রান খরচ করে তিন উইকেট নিয়েছেন।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এদিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে মুম্বই। কিন্তু শুরুটা খুব একটা সুককর হয়নি পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশি পেসার মোস্তফাজুর রহমানের বলে অভিষেক পোড়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন রোহিত শর্মা (৫)। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগে ফের মুম্বইকে ধাক্কা দেন মুকেশ কুমার। মুম্বইয়ের তিন নম্বরে নামা ব্যাটার উইল জ্যাকসকে (২১) ফিরিয়ে দেন। পরের ওভারে বল করতে এসে রায়ান রিকেলটনকে (২৫) জোর ধাক্কা দেন কুলদীপ যাদব।
চতুর্থ উইকেটে তিলক বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সূর্যকুমার যাদব। দিল্লির বোলারদের পাল্টা আক্রমণের পথে হেঁটে দুই ব্যাটার রান মেশিন সচল রাখেন বটে, তবে রান তোলার গতি খানিকটা শ্লথ হয়ে যায়। ১৫তম ওভারে বল করতে এসে তিলককে (২৭) ফিরিয়ে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন বাংলার মুকেস কুমার। ছয় নম্বরে নামা মুম্বইয়ের অধিনায়ক হার্দিক ব্যাট হাতে তেমন অবদান রাখতে পারেননি। দুষ্যন্ত চামিরার বলে তিনি আউট হন। সাজঘরে ফেরার আগে করেন ৬ বলে ৩ রান। খানিকটা চাপে পড়ে যায় মুম্বই। ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বেঁধে মারমুখী মেজাজে ব্যাট করে সেই চাপ কাটান সূর্য ও নমন ধীর। ৩৬ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন সূর্য। শেষ ওভারে চামিরাকে বেধড়ক ঠ্যাঙানি দিয়ে দলকে ১৮০ রানে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের সহ অধিনায়ক ৪৩ বলে ৭৩ এবং নমন ধীর ৮ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
জয়ের জন্য ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ট্রেন্ট বোল্ট-দীপক চহারদের আগুনে বোলিং সামলাতে হিমশিম খান দিল্লির ব্যাটাররা। ফ্যাপ ডু প্লেসিস (৬), অভিষেক পোড়েল (৬), কেএল রাহুলরা (১১) ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। চতুর্থ উইকেটে বিপরাজ নিগম ও সমীর রিজভি খানিক চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ১১ বলে ২০ রান করে মিচচেল সান্তনারের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন বিপরাজ। যার উপরে দিল্লির ভরসা ছিল সেই ত্রিস্তান স্টাবসও বিপদের দিনে দলের পরিত্রাতা হয়ে হাজির হতে পারেননি। তিনি ফেরেন মাত্র ২ রান করে। ষষ্ঠ উইকেটে আশুতোষ শর্মা ও সমীর রিজভি জুটি বেঁধে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন।
১৫তম ওভারে জোড়া ধাক্কা দেন সান্তনার। প্রথমে ফেরান একা কুম্ভ হয়ে লড়াই চালানো সমীর রিজভিকে (৩৫ বলে ৩৯)। পঞ্চম বলে ফেরান আশুতোষ শর্মাকে (১৮)। দিল্লির ভাগ্য তখনই নির্ধারিত হয়ে যায়। পরের ওভারে মাধব তিওয়ারিকে (৩) ফেরান যশপ্রীত বুমরাহ। ১৮তম ওভারে কুলদীপ যাদবকে (৭) ফেরান কর্ণ শর্মা। ১৯তম ওভারে বল করতে এসে মোস্তাফিজুর রহমানের (শূন্য রান) স্টাম্প ছিটকে দিল্লিকে গুটিয়ে দেন বুমরাহ।