নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে মদ্যপান নিষিদ্ধ। কিন্তু গোপনে মদ্যপান করেন পাক সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা। সদ্য এই বিষয়গুলি সামনে এসেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাবাহিনীকেও শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে মোতায়েন করা হয়। তখনই গোপনে ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে এসে বিদেশি সুরা পান করেন পাকিস্তানি সেনা আধিকারিকরা। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এই তথ্য দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান ও ‘দ্য ক্যান্টনমেন্ট কন্সপিরেসি’র লেখক জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে।
দীর্ঘ চার দশক ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। ফলে তিনি জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে। তাই নারাভানে স্পষ্ট বলেছেন যে পাকিস্তানি সেনা মুখে একরকম বলে, আর সকলের অগোচরে ভিন্ন কাজ করে।
জিয়া-উল-হক রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইসলামীকরণ ঘটেছিল। ফলে সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই সময়কালে পাক সেনাবাহিনী ধর্মের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হয়ে যায়। পাক আর্মিতে নতুন নতুন নিয়ম চালু হয়। বিশেষত সেনার জীবন যাপন নিয়ে অনেক বিধি নিষেধ আরোপিত হয়। ধর্মীয় কারণে পাকিস্তানি সেনা মদ্যপান করতে পারত না। মনোজ মুকুন্দ নারাভানের বক্তব্য অনুসারে মদ নিয়ে পাক আর্মি একরকম দেখায়, আর একরকম করে। কারণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় রীতিনীতি কেবল লোক দেখানোর জন্য। সেই সব আদপে পাক সেনা আধিকারিকরা অনুসরণ করেন না।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান বলেন, বিদেশে শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে আমরা যখন একে অপরের সঙ্গে দেখা করতাম তখন পাক আধিকারিকরা মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে এসে মদ্যপান করতেন। কিন্তু তা সম্পূর্ণ গোপনে। কারণ যদি কোনও পাকিস্তানি অফিসার বা সৈনিক নিজের ক্যাম্পে মদ্যপান করেন, তাহলে তাঁর ভাবমূর্তি বিনষ্ট হতে পারে। পাকিস্তানের জনগণের কাছে পর্দা ফাঁস হয়ে যেতে পারে। এর থেকেই পরিষ্কার যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে ইসলামিক নিয়ম রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানকার অফিসার বা সেনা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সেগুলি অনুসরণ করে।