নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : সৎ ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবারই তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দুর্ভাগ্য পুত্রসুখের পরিবর্তে পেয়েছেন পুত্রশোক। এরপরেই বুধবার সকালে নিউটাউন ইকোপার্কে এসে সাংবাদিকদের সামনে হতাশা যন্ত্রণা ঝরে পড়েছে তাঁর গলায়। ছেলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বলেছেন, প্রকৃত কারণ এখনও জানতে পারেননি। তবে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে পেলেই জানতে পারা যাবে।
নিজের সন্তান না হলেও স্ত্রী রিংকুর প্রথম পক্ষের ছেলে প্রীতম ওরফে সৃঞ্জয়কে আগে থেকেই চিনতেন দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেছেন, কোনওদিন একা থাকেনি প্রীতম। বন্ধুদের নিয়ে থাকত সে। তবে ড্রাগের সমস্যা ওর আগে থেকেই ছিল। সেই নিয়ে কাউন্সেলিং চলছিল বলে জানালেন বিজেপি নেতা। প্রীতমের অফিসের চিকিৎসকরাই তাঁকে দেখত। আচমকা কোথা থেকে কী হয়ে গেল বুঝতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেছেন, একটা তরতাজা ছেলে অকালে চলে গেল। বর্তমানে যুবসমাজের মধ্যে নেশার খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছে। নেশার প্রভাব যে কতটা খারাপ, এটা একটা নমুনা। ঠিক কি হয়েছিল বলার আগেই তো ছেলেটা শেষ হয়ে গেল। একটা তরতাজা ছেলের এইভাবে চলে যাওয়া আমাদের সবার কাছে একটা বড় শিক্ষা।
তিনি বলেছেন, শুধু ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না। ছেলেমেয়েরা কোথায় যাচ্ছে কি করছে? পড়াশোনার করিয়ে দিলেও চিন্তা থেকেই যায়।
সৎ ছেলের শেষকৃত্যে স্ত্রী রিংকুর পাশেই ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার নিউটাউনে নিজের ফ্ল্যাটে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হয় দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিংকু মজুমদারের প্রথম পক্ষের ছেলে প্রীতমকে। দ্রুত তাঁকে বিধাননগরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ এরপর আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত হয়। নিমতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় প্রীতমের৷ পুরো সময়টাই স্ত্রীয়ের পাশে ছিলেন দিলীপ ঘোষ।