নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যুক্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘন করেছে শরিফের দেশ। তারপরেই পাকিস্তানের সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেহবাগ এবং শিখর ধাওয়ান। ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশ প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) জুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। পাকিস্তানি ড্রোন জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিকে লক্ষ্য করে ওড়ানো হয়েছে। নির্লজ্জ দেশটির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফলে ভারতীয়রাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
X (পূর্বে টুইটার) –এ নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে, শেহবাগ একটি সুপরিচিত হিন্দি প্রবাদ সম্বলিত বার্তা পোস্ট করেন। বার্তাটি ছিল, “কুত্তে কি দুম টেড়ি কি টেড়ি হি রেহতি হ্যায়।” অর্থাৎ কুকুরের লেজ কখনও সোজা হয় না। বীরেন্দ্র শেহবাগ খেলোয়ার হিসাবে অসাধারণ ছিলেন। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেন বারবার ঝলসে উঠত তাঁর ব্যাট। শোয়েব আখতার, ওয়াসিম আক্রমের দেশে মুলতানের মাঠে তিনি ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই জন্যই শেওয়াগকে আখ্যায়িত করা হয় ‘মুলতান কি সুলতান’ বলে। অন্যদিকে, শিখর ধাওয়ান লিখেছেন: “ঘটিয়া দেশ নে ফির আপনা ঘটিয়াপন পুরি দুনিয়া কে আগে দিখা দিয়া।” অর্থাৎ অসভ্য দেশটি আবারও সমগ্র বিশ্বের কাছে তার অসভ্যতামি দেখিয়ে দিয়েছে।
— Virrender Sehwag (@virendersehwag) May 10, 2025
উভয় দেশের যৌথভাবে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করা হলেও এর লঙ্ঘন ঘটেছে। পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি নিশ্চিত করেছেন যে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানের ডিজিএমও তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত ধরণের শত্রুতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। এই যুদ্ধ স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস. জয়শঙ্করও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন।
Ghatiya desh ne fir apna ghatiyapan poori duniya ke aage dikha diya. #Pakistan#Ceasefire
— Shikhar Dhawan (@SDhawan25) May 10, 2025
অদ্ভুতভাবে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ শ্রীনগরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জারি করা হয় লাল সতর্কতা। জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে ব্যাপক ব্ল্যাকআউট হয়। একইসঙ্গে ভারতীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজস্থানের পোখরান এবং কাশ্মীরের বারামুল্লায় একাধিক পাকিস্তানি ড্রোনকে প্রতিহত করে।
২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। নিহত ২৬ জনের মধ্যে সেদিন পহেলগাঁওয়ে ২৫ জন ছিলেন পর্যটক। এই নৃশংস হামলার প্রতিশোধস্বরূপ ভারত ৭ই মে পাকিস্তানের নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে অপারেশন সিঁদুর পরিচালনা করে।