নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়ালিয়ার: মধ্যপ্রদেশের জনস্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নরেন্দ্র শিবাজি প্যাটেলের একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে নরেন্দ্র শিবাজি গোয়ালিয়রের কোয়ালিটি রেস্তোরাঁয় টেবিল না পাওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেছেন। এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে সিটি সেন্টার এলাকায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয়। ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সেখানে মন্ত্রীর পিএসওকে রেস্তরাঁর কর্মীরা ধাক্কা দেয়। এই দিনই মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা দলকে ডাকেন। সেই রাতেই সংগ্রহ করা হয় নমুনা। এরপরই পুলিশ রেস্তোরাঁর মালিককে আটক করে নিয়ে যায় বলে জানা যায়। পড়ে জানা যায় ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের জেরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, বিধানসভার স্পিকার নরেন্দ্র সিং তোমারের ছোট ছেলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্যই মন্ত্রী এদিন গোয়ালিয়রে এসেছিলেন। রবিবার রাতে, মন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে যান। যেহেতু রবিবার ছুটির দিন তাই রেস্তরাঁতে স্বভাবতই খুব ভিড় ছিল। পাশাপাশি সমস্ত টেবিলই সেদিন বুক করা ছিল। তখনই মন্ত্রী শিবাজি প্যাটেলকে অপেক্ষা করতে হয়। এদিন রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, দুই খাদ্য নিরাপত্তা কর্মী লোকেন্দ্র সিং এবং বুন্দেলার জন্য ৫ এবং ১০ জনের মতো আলাদাভাবে টেবিল বুক করা হয়েছিল। মন্ত্রী আসতেই কর্মীরা যখন জিজ্ঞাসা করেন কার নামে বুকিং করা রয়েছে, তখনই তিনি প্রচণ্ড চটে যান।
এর পরই দুই পক্ষের মধ্যে বাধে তুমুল অশান্তি। মন্ত্রী শিবাজি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা দলকে ডেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলেন। এই সংগ্রহের কাজ চলে রাত ১১:১৫ পর্যন্ত। একটি তেলের নমুনা তাৎক্ষণিক পরীক্ষায়ও ব্যর্থ হয়েছে। এই সময়, পুলিশ রেস্তোরাঁর মালিক কমল অরোরাকে আটক করে নিয়ে যান। কিন্তু চেম্বার অফ কমার্স এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী নরেন্দ্র শিবাজি প্যাটেল একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “এটি একটি নিয়মিত চেকিং ছিল। আমি যেখানেই যাই না কেন, আমি আমার বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত অফিস এবং স্থাপনাগুলি পরিদর্শন করি। সেই সময় রেস্তোরাঁর কিছু নমুনা ব্যর্থ হয়েছিল, যার পরে কর্মীরা দুর্ব্যবহার শুরু করে। এটা অবাক করার মতো যে কর্মীরা যদি একজন মন্ত্রীর সঙ্গে এইরকম আচরণ করতে পারে, তাহলে তারা সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কতটা খারাপ ব্যবহার করেন।”
এই বিষয় তীব্র নিন্দা করে মধ্যপ্রদেশ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি প্রবীণ আগরওয়াল বলেন , “এটি ভুল। আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করব এবং মন্ত্রীর বরখাস্তের দাবি জানাব।” রেস্তোরাঁর মালিক এবং কর্মীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে মন্ত্রী শিবাজি তাঁদের সঙ্গে খুবই দুর্ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর কর্মীরা ধাক্কা দিয়েছেন।
মহিলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মী বলেন যে নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। সিসিটিভি ফুটেজে, মন্ত্রীর পিএসওকে একজন কর্মীকে ধাক্কা দিতে দেখা গিয়েছে এবং পরে একই কর্মীকে মন্ত্রীর সামনে হাত জোড় করে থাকতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনার সত্য মিথ্যা বিচারে এখনও তদন্ত চলছে।