নিজস্ব প্রতিনিধি নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওকাণ্ড নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘রাজধর্ম’ স্মরণ করালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ‘রাজার ধর্ম হচ্ছে প্রজাকে রক্ষা করা। আর প্রজাকে রক্ষার জন্য অপরাধীদের বধ করা অন্যায়ের কিছু নয়।’ এ ক্ষেত্রে রামায়ণের রাবণ বধ এবং মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের ভূমিকার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘পরোক্ষে পাকিস্তানকে উপযুক্ত সবক শেখাতে যুদ্ধের পথে হাঁটার’ মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেই প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন সঙ্ঘ প্রধান।
শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘দ্য হিন্দু মেনিফেস্টো’ নামাঙ্কিত এক বইয়ের উন্মোচন করতে গিয়ে নাম না করেই পহেলগাঁওকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেছেন ভাগবত। তাঁর কথায় ‘আমাদের ধর্ম-নীতি হচ্ছে অহিংসা। আমরা কখনও আমাদের প্রতিবেশীদের ক্ষতি করি না বা অসম্মান করি না। কিন্তু যদি কোন দেশ বা সম্প্রদায় খারাপ পথ অবলম্বন করে, আমাদের ক্ষতি করে, তাহলে তার প্রতিকার কী? রাজার কর্তব্য হল জনগণকে রক্ষা করা এবং তিনি তার কর্তব্য পালন করবেন। গীতা অহিংসার শিক্ষা দেয়, কিন্তু শিক্ষা হল অর্জুন যাতে যুদ্ধ করে এবং হত্যা করে তা নিশ্চিত করা। কারণ তিনি এমন লোকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন যাদের চরম পরিণতি প্রাপ্য ছিল।’
ভগবান রামচন্দ্রের লঙ্কাধিপতি তথা অসুররাজ রাবণকে বধ করার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সরসঙ্ঘচালক বলেন, ‘যখন কেউ অত্যাচারের সব সীমা পার করে যায় এবং তাকে সংশোধনের কোনও পথ থাকে না, তখন তাকে দমন বা বধ করা একপ্রকার অহিংসা। প্রকৃত ধর্ম পালন। ভগবান রাবণকে সংহার করেছিলেন। তা অহিংসাই ছিল। অত্যাচারীদের প্রতিহত করার আর এক নাম ধর্ম। রাজার কর্তব্য হচ্ছে প্রজাদের রক্ষা করা ও অত্যাচারীদের দণ্ড দেওয়া।’