নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিমদের সঙ্গে লড়তে দীর্ঘদিন ধরেই ‘হাম দো, হামারে দো’ নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য হিন্দুদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ‘জনসংখ্যার ভারসাম্যর’ দোহাই পেড়ে ফের একবার ‘হাম দো, হামারে তিন’ শ্লোগান তুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর কথায়, ‘প্রত্যেক ভারতীয় পরিবারে তিনটি সন্তান থাকা উচিত। এতে যেমন পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে, তেমনই দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্যও অটুট থাকবে। তাই দেশ ও পরিবারের জন্য প্রতিটি ঘরে তিন সন্তান থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’
বৃহস্পতিবার (২৬ অগস্ট) নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত দম্পতিদের তিন সন্তান নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন ‘প্রতিটি পরিবারে তিনটি সন্তান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যে পরিবারগুলিতে তিনটি সন্তান রয়েছে, তারা অহঙ্কার এবং আন্তঃব্যক্তিক গতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের জনসংখ্যা নীতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে প্রতি পরিবারে ২.১ সন্তান। যেহেতু ০.১ শিশু সম্ভব নয়, এর অর্থ কার্যকরভাবে তিনটি। শিশুদের অবশ্যই সঠিক ভরণপোষণ করতে হবে। তাই তিনটি সন্তান থাকা উচিত, তবে তার বেশি নয়।’
দেশে জনসংখ্যার ভারসাম্য ক্রমশই নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করে সঙ্ঘ প্রধান বলেন, ‘আমরা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়, তাহলে দেশ বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। প্রতিটি জাতি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।’ অনুপ্রেবেশকারী কিংবা অবৈধ পরিযায়ীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করার আর্জি জানিয়ে ভাগবত বলেন, ‘অবৈধ পরিযায়ী বা বহিরাগতদের কাছে কাজ যাওয়া উচিত নয়। সেগুলি আমাদের নিজস্ব দেশে বসবাসকারী মুসলমানদের কাছে যেতে হবে। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।’ দেশজুড়ে চলা ধর্মান্তর প্রসঙ্গে সঙ্ঘ প্রধান বলেন ‘ধর্মান্তর একটি সমস্যা কারণ এটি সংখ্যাকে প্রভাবিত করে। ক্যাথলিকরা দাবি করে যে তারা এতে জড়িত নয় এবং উলেমারাও একই কথা বলেন। ধর্ম ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, তাই ধর্মান্তর অবাঞ্ছিত।’