নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর: যশস্বী জয়সোয়াল-বৈভব সূর্যবংশী ও রিয়ান পরাগের বুক চিতানো লড়াই ব্যর্থ হল। ধ্রুব জুরেল আর সিমরান হেইটমায়ারের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়র ফলে জেতা ম্যাচে ফের হারল রাজস্থান রয়্যালস। দিল্লির কাছেও হারের জন্য ওই দুই ব্যাটার বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে প্রথম ব্যাট করে আইডেন মার্করাম ও আয়ুষ বাদোনির জোড়া অর্ধশতরানের দৌলতে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তুলেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। জবাবে ৫ উইকেটে ১৭৮ রান তুলেই থেমে যায় রাজস্থান।
সোয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লখনউয়ের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। যদিও শুরুটা খুব একটা সুখকর হয়নি লখনউয়ের। তৃতীয় ওভারেই জোফ্রা আর্চারের বলে ফিরে যান মিচেল মার্শ (৪)। চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানকারী নিকোলাস পুরান তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তেমন কিছু করতে পারেননি। ৮ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১১ রান করে ফেরেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। তাঁকে সাজঘরের পথ ধরান সন্দীপ শর্মা। ব্যাড প্যাচ কাটিয়ে ছন্দে ফিরতে পারেননি আইপিএলের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় তথা লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ৯ বলে মাত্র তিন রান করে ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গার শিকার করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। ৫৪ রানে প্রথম সারির তিন ব্যাটারকে হারিয়ে খানিকটা চাপে পড়ে যায় লখনউ।
চতুর্থ উইকেটে আয়ুষ বাদোনিকে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ কাটান আইডেন মার্করাম। রাজস্থানের বোলারদের আক্রমণ ভোঁতা করে রান মেশিন সচল রাখেন। ৩১ বলে পাঁচটি চার ও দুই ছক্কার সাহায্যে অর্ধশতরান করেন প্রোটিয়া ব্যাটার। দলকে শতরানের গণ্ডি পার করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বড় রানের ইনিংসের দিকেও এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১৬তম ওভারে বল করতে এসে মার্করামকে (৪৫ বলে ৬৬) ফিরিয়ে রাজস্থানকে ব্রেক থ্রু এনে দেন ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গা। ভেঙে যায় ৭৬ রানের জুটি। মার্করামের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছিলেন আয়ুষ বাদোনিও। তিনিও অর্ধশতরান পেয়ে যান। যদিও অর্ধশতরানের পরেই তুষার দেশপাণ্ডের বলে শুভম দুবের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে করেন ৫০ রান। ষষ্ঠ উ্ইকেটে জুটি বেঁধে ডেভিড মিলার ও আব্দুল সামাদ দলকে ১৮০ রানে পৌঁছে দেন। মিলার ৮ ও সামাদ ১০ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন।
জয়ের জন্য ১৮১ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মেরে খেলতে থাকেন রাজস্থানের দুই ওপেনার যশস্বী জয়সোয়াল ও অভিষেক ঘটা বৈভব সূর্যবংশী। পঞ্চম ওভারে আইডেন মার্করামের বলে পর পর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন যশস্বী।যদিও ষষ্ঠ ওভারে প্রিন্স যাদবের বল সামলাতে নাকানিচোবানি খান। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৬১ রান তোলে রাজস্থান। ৩১ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন যশস্বী। নবম ওভারে আইডেন মার্করামের বল মারতে গিয়ে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন বৈভব। আউট হওয়ার আগে ১৯ বলে ৩৪ রান করেন আইপিএলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার। পরের ওভারে ফিরে যান নীতীশ রানাও। তিনি করেন সাত বলে আট রান।
এর পর তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান যশস্বী ও রিয়ান পরাগ। দুজনে তৃতীয় উইকেটে ৬৬ রান যোগ করে কার্যত দলক জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৮তম ওভারে ম্যাচের রং আচমকাই বদলে দেন আবেশ খান। প্রথম বলে সাজঘরে ফেরত পাঠান যশস্বীকে (৫২ বলে ৭৪)। শেষ বলে আউট করেন রিয়ান পরাগকে (২৬ বলে ৩৯)। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজস্থানের দরকার ছিল ৯ রান। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে সিমরান হেইটমায়ারকে (৬ বলে ১২) ফিরিয়ে দেন আবেশ খান। শুভম দুবে তিন বলে তিন রান তুলে দলের হার নিশ্চিত করেন।