নিজস্ব প্রতিনিধি: পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের রত্ন ভান্ডারের সংস্কার কার্য প্রায় শেষের দিকে। বার্ষিক রথযাত্রা উৎসবের আগেই এটি শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। SJTA-এর প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধী জানিয়েছেন যেভাবে কাজ চলছে তাতে আশা করা যাচ্ছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া সময়মতোই মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
পাধী সম্প্রতি এই অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং ASI-এর পুরী বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আপডেট শেয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন যে অভ্যন্তরীণ রত্ন ভান্ডারের ভিতরে সংরক্ষণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, কেবল কিছু মেঝের কাজ বাকি রয়েছে।
বাইরের রত্ন ভান্ডারের কাজও উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রগতি পেয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পাথরের কাঠামো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং জগমোহন প্ল্যাটফর্মে ভাঙা পাথরের পুনর্গঠন প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ কক্ষের ভিতরে পাঁচটি স্টেনলেস স্টিলের স্তম্ভ স্থাপন করা হচ্ছে। এতে কোষাগারের কাঠামোগত অখণ্ডতা জোরদার হবে বলে দাবি করেছেন পাধী।
মন্দিরের নিরাপত্তা এবং ঐতিহ্য বিষয়ক সংরক্ষণের উপর তীব্র মনোযোগ দেওয়ার সাথে সাথে, ভক্ত এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাও চলছে। রথযাত্রার প্রস্তুতিও এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে।
প্রসঙ্গত, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্ন ভাণ্ডার হলো মন্দিরের একটি পবিত্র কোষাগার। এখানে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার মূল্যবান অলঙ্কার, গয়না এবং অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়। ৪৬ বছর পর ২০২৪ সালে খোলা হয়েছিল এই রত্নভাণ্ডারের দরজা।
ওড়িশার রাজা অনঙ্গভীম দেব জগন্নাথদেবের অলঙ্কার তৈরির জন্য প্রায় দেড় হাজার কেজি সোনা দিয়েছিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষকে। শুধু বাইরের প্রকোষ্ঠেই রয়েছে প্রায় দেড় কেজি করে সোনা দিয়ে তৈরি জগন্নাথের একটি সোনার মুকুট এবং তিনটি সোনার হরিদকণ্ঠী মালা। জগন্নাথ এবং বলভদ্রের সোনার তৈরি শ্রীভুজ বা সোনার হাত। রয়েছে সোনার পা’ও।
এ ছাড়া রয়েছে সোনা, হিরে, প্রবাল, মুক্তো দিয়ে তৈরি ‘প্লেট’। ১৪০টি ভারী রূপার গহনাও রয়েছে মন্দিরের ভিতরের রত্নকক্ষে। জগন্নাথের অলঙ্কারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সোনার তৈরি ময়ূরের পালক। কপালে পরার সোনার পট্টি, সোনার কানের দুল। রত্নখচিত সোনার তৃতীয় নয়নও রয়েছে জগন্নাথ এবং সুভদ্রার গহনার তালিকায়। সোনার পাতের তৈরি একটি চোখের মাঝে রয়েছে হিরে। অন্যটির মাঝে রয়েছে পান্না।