নিজস্ব প্রতিনিধি: ২৬/১১ মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার সময় সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেরন ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড কমান্ডো মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন। সেই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড তাহাবুর রানাকে সদ্য আমেরিকা থেকে ভারতে আনা হয়েছে। আর তারপরেই মুখ খুলেছেন মেজরের বাবা। তিনি বলেছেন, তাহাব্বুর রানার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভারতে প্রত্যর্পণ কোনও কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য ‘প্রতিশোধ’।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে শহীদ মেজর উন্নিকৃষ্ণানের বাবা কে উন্নিকৃষ্ণান বলেন, রানার প্রত্যর্পণ কোনও সমাধানের পথ নয়। ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড কোলম্যান হেডলিকেও ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
২৬/১১ ভারতের এক কালো দিন। সন্ত্রাসবাদীরা যখন তাজ হোটেলে হামলা চালাচ্ছিল তখন একত্রিশ বছর বয়সী মেজর উন্নিকৃষ্ণান ১০ জন কমান্ডোর একটি দলকে নিয়ে হোটেলে যান। উভয় পক্ষের মধ্যেই ব্যাপন গুলিবর্ষণ হয়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে এনসিসি দলের অনেকে আহত হন। মেজর উন্নিকৃষ্ণান তাঁর আহত সহকর্মীদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন একাই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার।
হোটেলের উত্তর প্রান্তে সন্দীপ সন্ত্রাসীদের কোণঠাসা করতে সক্ষম হয়েছিলেন বটে, কিন্তু নিজেও জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন। মেজরের সহকর্মীরা বলেছিলেন অসমসাহসী বীর ভারতসন্তানের শেষ কথা ছিল, “উপরে এসো না, আমি ওদের সামলে নেব।” মেজর সন্দী উন্নিকৃষ্ণানকে ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা অশোক চক্রে ভূষিত করা হয়।
ষোল বছর পর মেজরের বৃদ্ধ বাবার কণ্ঠ থেকে ঝরে পড়েছে গর্ব। তিনি বলেছেন, “সন্দীপ ২৬/১১-এর শিকার নন। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ও। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের দায়িত্ব ভালভাবে পালন করেছিল সন্দীপ। ও জানত ও হয়তো আর ফিরে আসবে না। যদি মুম্বাইতে এইভাবে মৃত্যু না হতো, তাহলে হয়তো অন্য কোথাও হত। তাই আমাদের প্রধান চিন্তা হওয়া উচিত এই ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধ করা। যারা আমাদের ক্ষতি চাইছে তাদের রোধ করা।”
রানার ভারতে প্রত্যর্পণ মেজরের বাবাকে সন্তুষ্টি দিয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “অবশ্যই এটি একটি সাফল্য। সাধারণ মানুষের জন্য এটি কেবল একটি কূটনৈতিক সাফল্য নয়, এটি প্রতিশোধও। আমরা অপরাধীদের ধরতে পারি।”
তবে একই সঙ্গে কে উন্নিকৃষ্ণানের বক্তব্য, “এটিই একমাত্র সমাধান নয়। আমাদের কোলম্যান হেডলিকে ধরতে হবে। এরা তো সবাই হাতিয়ার, এরা টাকার জন্য কাজ করছে। আমাদের আশেপাশের কিছু সংস্থার নির্দেশে কাজ করেছে। কিন্তু এর নেপথ্য মস্তিষ্ক, আমরা এখনও তাদের স্পর্শ করতে পারিনি।”
এনআইএ-র চার্জশিট অনুসারে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন চিকিৎসক ও সন্ত্রাসী তাহাব্বুর রানা ২৬/১১-এর মূল ষড়যন্ত্রকারী ডেভিড হেডলিকে আর্থিক এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেছিল। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, খুন এবং জালিয়াতি সহ বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের আওতাধীন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।