নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতেই ভারতে নিয়ে আসা হবে, আর্থার জেলে রাখা হবে ২৬/১১ মুম্বইয়ের সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড তাহাউর রানাকে। তাহাউর রানাকে ভারতে প্রত্যার্পণের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট। এরপরেই বিশেষ বিমানে ভারতে আনা হচ্ছে রায়ে তাহাউর রানাকে। তবে রানার ভারতে প্রত্যার্পণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) শিবসেনার মুখপাত্র রাজু ওয়াঘমার একটি উস্কানিমূলক বিবৃতি দিয়ে রানার প্রকাশ্য এনকাউন্টারে হত্যার দাবি তুলেছেন। তিনি একটি সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, ‘রানার মতো সন্ত্রাসীদের এনকাউন্টারে হত্যা করা উচিত জনসমক্ষে। যাতে আর কোনও সন্ত্রাসী ভারতে আক্রমণের কথা না ভাবতে পারে। রানাকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলে সবাই শিক্ষা পাবে।’
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট ভারতে প্রত্যার্পণ এড়াতে রানার চূড়ান্ত আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এরপরেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন করতে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজতর করার জন্য ভারতের পুলিশ বিভাগের একটি বিশেষ দলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। অবশেষে মার্কিন মুলকে সমস্ত কাজকর্ম শেষ করার পরে তাহাউর রানাকে ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, রানা ভারতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেবে। তাঁকে মুম্বইয়ে বিমানে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ২০০৮ সালের হামলার ঘটনা টি ঘটেছিল। হয়তো তাঁকে দিল্লির তিহার জেল এবং মুম্বইয়ের আর্থার রোড কারাগারে তাঁকে রাখা হতে পারে। সেই কারণে উচ্চ-নিরাপত্তা সেল-সহ বিশেষ কারাগারগুলিকে তাঁকে আটকের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে প্রথম কয়েক সপ্তাহ এনআইএ হেফাজতে রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ২৬/১১ মুম্বইয়ের সন্ত্রাসী হামলায় মোট ১৬৬ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। জানা যায়, এই হামলার আগে মুলহোতা তাহাউর রানার সঙ্গে পাকিস্তানি আমেরিকান সন্ত্রাসী ডেভিড কোলম্যান হেডলির ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছিলেন। আটবার ভারত সফরের সময় তিনি তাহাউর রানাকে ২৩১ বার ফোন করেছিলেন। হেডলি ছিলেন ২৬/১১-এর অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। আদালতের রেকর্ড, এনআইএ রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, রানা হেডলিকে ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে ভারতে তার পরিচয় গোপন করা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাহায্য করেছিলেন। রানা হেডলির ভারতে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সন্ত্রাসী হামলার স্থান চিহ্নিত করতেও তাকে সাহায্য করেছিলেন। এরপরেই সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গা ঢাকা দেয়। ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার অভিযুক্ত সেই তাহাউর রানাকে ভারতে আনা হচ্ছে। তাকে আমেরিকা থেকে একটি বিশেষ বিমানে ভারতে আনা হচ্ছে। এই বিমানটি আজ সন্ধ্যায় ভারতে পৌঁছবে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এনআইএ সদর দফতরের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যারিকেডিং করেছে। তাহাউর রানার সঙ্গে ভারতীয় তদন্ত সংস্থার একটি দলও রয়েছে। মার্কিন আদালতে তাহাউরের প্রত্যার্পণের অনেকবার দাবি জানিয়ে ছিলেন ভারত সরকার। অবশেষে ভারতে আনা হচ্ছে রানাকে। তবে ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অনেকেই অখুশি।