নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: ভারতের কাছে হাফিজ সঈদ একইসঙ্গে ক্রোধ ও আতঙ্কের নাম। ভারতে হওয়া একাধিক হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি। অথচ সন্ত্রাস মদতকারী দেশ পাকিস্তান তাঁকে একেবারে রাজ আদরে রেখেছে। সম্প্রতি হাফিজ সঈদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে, ভারতের হামলার ভয়ে তাঁকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও নির্লজ্জ জঙ্গিদেশের দাবি হাফিজ সঈদ এখন পাকিস্তানের জেলে রয়েছেন।
লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একজন প্রাক্তন সদস্য নূর দাহরি এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে সংগঠনে নিজের নিয়োগ, সেখানকার অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত মোহভঙ্গের ব্যক্তিগত বিবরণ শেয়ার করেছেন। ব্রিটিশ ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইসলামিক থিওলজি অফ কাউন্টার টেরোরিজম-আইটিসিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, তাঁর প্রয়াত মায়ের ইচ্ছা ছিল ছেলে ডাক্তার হবে। কিন্তু নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সঈদের প্রভাবে নূর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে লস্কর-এ যোগদান করেছিলেন।
নূর দাহরি বর্ণনা করেছেন যে মুরিদকেতে হাফিজের স্থায়ী বাসভবন এবং প্রধান কার্যালয়ে লস্কর প্রধানকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। হাফিজের বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে লস্কর-ই-তৈবাতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। নূরের মতোই অসংখ্য তরুণকে লস্কর-এ যোগদান করতে এবং পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তান এবং ভারতের কাশ্মীর সন্ত্রাস অভিযান করতে উৎসাহিত করেছিলেন হাফিজ। প্রতি বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৫০০ জন ব্যক্তি আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে অবস্থিত মা’আসকার তাইয়্যবা নামে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে যাতায়াত করতেন।
আফগানিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে যে কঠোর বাস্তবতা দেখেছিলেন নূর, তার কারণেই তিনি লস্কর-ই-তৈবা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল গোষ্ঠীর ‘আসল চেহারা’। নূর এও বলেছেন যে লস্কর ছাড়ার সময় তাঁকে শুনতে হয়েছিল যে তিনি কাপুরুষ।
নূর দাহরি অভিযোগ করেন যে লস্কর-ই-তৈবার বর্তমানে প্রায় দশ লক্ষ প্রশিক্ষিত জঙ্গির একটি বাহিনী রয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে লস্কর এক গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বা। হাজার হাজার পাকিস্তানিদের মৃত্যুর জন্য হাফিজ সঈদকে দায়ী করে নূর দাহরি বলেছেনন, “আমি আমার জীবনে ওই লোকটির লজ্জাজনক পরিণতি দেখতে চাই। ইনশাআল্লাহ।”