নিজস্ব প্রতিনিধি: দিল্লির ক্রিকেট জগতে এক নতুন তারার উদয় হয়েছিল। তিনি আর কেউ নন। প্রিয়াংশ আর্য। গত বছর দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মেরে তিনি সবার নজর কেড়েছিলেন। এরপর আইপিএল নিলামে পঞ্জাব কিংস তাকে ৩.৮ কোটি টাকায় কিনে নেয়। কিন্তু এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের কেরিয়ার প্রায় শেষ হতে চলেছিল, শুধুমাত্র দিল্লি ক্রিকেটের অবহেলা আর পক্ষপাতের কারণে। মঙ্গলবার চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি (১০৩ রান, ৪২ বল) করে তিনি প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা কোনও বাধা মানে না।
প্রিয়াংশের লড়াই
গত বছরের আইপিএল নিলামের পর থেকে এই সেঞ্চুরির আগে পর্যন্ত প্রিয়াংশের জীবনে অনেক কিছু ঘটেছে। দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (DDCA) সিলেক্টররা তাকে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলার সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেখাননি। তাদের যুক্তি ছিল, প্রিয়াংশের রেড-বল ক্রিকেটে তেমন রান নেই। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পিছনে পক্ষপাতের ছায়া ছিল বলে অনেকে মনে করেন। তবে শেষমেশ দিল্লির সিনিয়র ক্রিকেটাররা এবং DDCA প্রেসিডেন্ট এগিয়ে এসে তাকে দলে স্থান করে দেন। এই সাপোর্ট না পেলে হয়তো প্রিয়াংশের কেরিয়ারও শেষ হয়ে যেত।
দেবাং গান্ধি, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রিকি পন্টিংয়ের নজরে প্রিয়াংশ
প্রিয়াংশের প্রতিভা প্রথম চোখে পড়ে দিল্লির প্রাক্তন কোচ দেবাং গান্ধির। ২০২৩ সালে একটি ট্রায়াল ম্যাচে তিনি প্রিয়াংশকে দেখেন। গান্ধির কথায়, ‘প্রিয়াংশের ব্যাটিং টাইমিং অসাধারণ। হর্ষিত রানা আর ময়াঙ্ক যাদবের মতো দ্রুত বোলারদের সামনেও সে একদম নির্ভয়ে খেলে। তার মধ্যে একটা আলাদা মনোভাব আছে।” দেবাং গান্ধি তাকে শুধু সাদা বলের ক্রিকেটেই নয়, রঞ্জি ট্রফিতেও খেলানোর জন্য জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রিকি পন্টিংয়ের মতো ক্রিকেট কিংবদন্তিরাও প্রিয়াংশের প্রতিভার প্রশংসা করেছেন।
হতাশা থেকে সাফল্যের সফর
দিল্লি দলের বাইরে থাকার সময় প্রিয়াংশ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি দেবাং গান্ধিকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমি কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করতে পারি?” এই কঠিন সময়ে তিনি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। আর তার ফল মিলেছে আইপিএল ২০২৫-এ। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ৪২ বলে ১০৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি পঞ্জাব কিংসকে ১৮ রানে জয় এনে দেন। এই ইনিংসে ছিল ৯টি ছক্কা, যা দিল্লির সিলেক্টরদের জন্য যোগ্য জবাব।
প্রিয়াংশ আর্যর এই সাফল্য শুধু তার নিজের জয় নয়, দিল্লি ক্রিকেটের জন্যও একটা বড় শিক্ষা। প্রতিভাকে সঠিক সুযোগ না দিলে তা হারিয়ে যেতে পারে। তবে এখন প্রিয়াংশ দেখিয়ে দিচ্ছেন—তিনি শুধু দিল্লির নন, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হতে পারেন।