নিজস্ব প্রতিনিধি : কসবায় ডিআই অফিসের সামনে চাকরিহারাদের তুমুল বিক্ষোভ। তাঁদের ওপর পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ। তালা ভেঙে গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ্যদের চাকরি না যাওয়ার আশ্বাসের পরেও চিঁড়ে ভেজেনি। বহু চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিজের ইচ্ছায় স্কুল ফিরলেও, অনেকেই রাজি নয়। তাঁদের দাবি স্থায়ী সমাধান। রাজ্যের সর্বত্র সেই একই ছবি। কোথাও দেখা গিয়েছে ডিআই অফিসে তালা দিচ্ছেন চাকরিহারারা। আবার কোথাও তালা ভাঙছেন।
চাকরিহারা স্কুল শিক্ষকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কসবার ডিআই অফিস চত্বর৷ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে প্রথমে গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। এখানেই থেমে নেই, তালা ভেঙে ডিআই অফিসের ভিতরে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীরা৷ ডিআই অফিসের ভিতরেই অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন চাকরিহারা শিক্ষকরা৷
বিক্ষোভাকীরদের দাবি, যোগ্য এবং অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে ৷ ভিড় এবং ধাক্কাধাক্কির মধ্যে এক স্কুল শিক্ষক অসুস্থও হয়ে পড়েন৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পুলিশ বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের উপরে লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ৷ জানা গিয়েছে, কয়েককজনকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনারও অভিযোগ উঠেছে।
তারপরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের গায়ে হাত তোলা কেন হল, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডিসি এসএসডি বিদিশা কলিতা। পুলিশের দাবি, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের চেষ্টা চলছিল। তা রক্ষা করার জন্যই বিক্ষোভকারীদের সরানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মেদিনীপুরে ডিআই অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল বিক্ষোভকারী চাকরিহারারা। ডিআই অফিসে আটকে পড়েছিলেন অন্যান্য কর্মীরা।
উল্লেখ্য, সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, জীবন থাকতে কোনও যোগ্যের চাকরি যেতে দেবেন না। কারা অযোগ্য, তাঁদের কেন অযোগ্য বলা হচ্ছে, আদৌ তাঁরা অযোগ্য কি না, তা-ও যে রাজ্য সরকার খতিয়ে দেখবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু স্থায়ী সমাধান ছাড়া কোনও কিছুই শুনতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা।