নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রহারেণ ধনঞ্জয়! মঙ্গলবার ৯৮ এপ্রিল) ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাঘা-বাঘা বোলারদের পিটিয়ে ছাতু করলেন মিচচেল মার্শ-নিকোলাস পুরান ও আইডেন মার্করাম। এই তিন বিদেশি খেলোয়াড়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সুবাদেই প্রথমে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়ল লখনউ সুপার জায়ান্টস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান তুলল সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল। সবচেয়ে অবাক কাণ্ড হল, বোলারদের বধ্যভূমিতে এদিন সমালোচনার ভয়ে চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেননি লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। কলকাতার সফলতম বোলার হর্ষিত রানা। তিনি চার ওভারে ৫১ রান খরচ করে ২টি উইকেট নিয়েছেন।
টসে জিতে এদিন প্রথমে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠান নাইটদের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে যায়। শুরু থেকেই বৈভব আরোরা-স্পেন্সার জনসনদের পিটিয়ে ছাতু করতে শুরু করেন লখনউয়ের দুই ওপেনার আইডেন মার্করাম ও মিচেল মার্শ। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে অর্থাৎ ছয় ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান তোলে লখনউ। ১১ তম ওভারে বল করতে এসে বিধ্বংসী মার্করামকে (২৮ বলে ৪৭) ফিরিয়ে ৯৯ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙে কলকাতাকে খানিকটা স্বস্তি এনে দেন হর্ষিত রানা। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। উল্টে চাপ কাটিয়ে উঠতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন মার্শ ও পুরান। ইডেনের মাঠে চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান দুই বিদেশি ব্যাটার। মারের চোটে লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেলেন কলকাতার বোলাররা। চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৩৬ বলেই নিজের অর্ধশতরানে পৌঁছে যান মার্শ। পুরানের তাণ্ডবে মাত্র ১৯ বলেই দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রান যোগ হয়। শেষ পর্যন্ত মার্শের তাণ্ডব থামান আন্দ্রে রাসেল। আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৪৮ বলে ৬টি চার ও চারটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার।
মার্শ ফেরার পর আরও খুনে মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন নিকোলাস পুরান। তার তাণ্ডবে রীতিমতো অসহায় দেখাচ্ছিল কলকাতার বোলারদের। মাত্র ২১ বল দুটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান তুলে নেন পুরান। ১৭.৩ ওভারেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় লখনউ। ১৯তম ওভারে বল করতে এসে আবদুল সামাদকে (৬) ফেরান হর্ষিত। শেষ পর্যন্ত ২৩৮ রানে পৌঁছয় লখনউ। ৩৬ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন পুরান। ডেভিড মিলার অপরাজিত থাকেন ৪ বলে চার রান করে।