নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১০ বছর গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ করেছেন। ২০১৬ সালের প্যানেল থেকে স্কুল শিক্ষকতায় চাকরি পেয়েছিলেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকরি ছেড়ে ছাত্র তৈরির কাজেই নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। কিন্তু সু্প্রিম কোর্টের এক নির্দেশে মুহূর্তের মধ্যে হারালেন সেই চাকরি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বেলপাহাড়ি ব্লকের ওদোলাচুয়া এসসি হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক উত্তম মান্না।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের শিরষা গ্রাম থেকে বেলপাহাড়িতে এসে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন উত্তম মান্না। স্কুলের চাকরি পেয়ে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে শিরষায় বাড়ি করেছেন। কিন্তু একটা রায় তাঁর জীবনটাকেই ওলট পালট করে দিল। বাড়ির লোন শোধ থেকে শুরু করে সন্তানকে মানুষ করার কাজ কীভাবে করবেন ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। চোখের জলে শুধু এখন হাহাকার।
২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে মুর্শিদাবাদ জেলার একটি স্কুলে প্রথমে যোগ দেন উত্তম। ২০২১ সাল থেকে তিনি ওদোলাচুয়া এসসি হাইস্কুলের আসেন। এর আগে শিরষা গ্রাম পঞ্চায়েতে চাকরি করতেন। তাঁর দাবি, অনৈতিকভাবে চাকরি পাননি। তাই এই চাকরি যাওয়া কোনওভাবে মেনে নিতে পারছেন না। রাজ্যকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার আগেই সমস্যার সমাধান করে দিলে এই দিনটি দেখতে হতো না। ছাত্র তৈরির স্বপ্ন তাঁর জীবনটাকেই বদলে দিয়েছে।
গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকরি ছেড়ে ছাত্র তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভেবেছিলেন সমাজের মেরুদণ্ড তৈরিতে কিছুটা হলেও তাঁর অবদান থাকবে, কিন্তু সেই চাকরিটাই যে তাঁর মেরুদন্ড অসহায় করে দেবে ঘূনাক্ষরেও টের পাননি তিনি।