নিজস্ব প্রতিনিধি: আজকাল প্রায় সব বয়সের মানুষের মধ্যেই রিলস দেখার প্রতি আসক্তি কাজ করে। চিকিৎসকরা এই আসক্তি সম্পর্কে সতর্ক করে বলছেন যে এই ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে রিলস দেখা চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ফেসবুক এবং ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ রিল দেখার ফলে সকল বয়সের মানুষের, বিশেষ করে শিশু এবং যুবকদের মধ্যে চোখের সমস্যা বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে রিল দেখার কারণে চোখ পর্যাপ্ত আর্দ্রতা তৈরি করতে পারে না। এতে চোখ খারাপ হয় খুব তাড়াতাড়ি। স্ক্রিনে ক্রমাগত তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক পড়ার হার ৫০ শতাংশ কমে যায়, যার ফলে ড্রাই আই সিন্ড্রোম এবং অ্যামোকমেডেশন স্প্যাম (কাছের এবং দূরের বস্তুর মধ্যে ফোকাস পরিবর্তনে অসুবিধা) দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই অভ্যাস বন্ধ না করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদী চোখের সমস্যা এমনকি চোখের উপর স্থায়ী চাপও পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছে, যেসব শিশু প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখে সময় কাটায় তাদের মায়োপিয়া শুরুর সম্ভাবনা থাকে। এই ঘটনা আগের চেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে। ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের নীল আলোর কারণে তরুণ তরুণীরা প্রায়শই মাথাব্যথা, মাইগ্রেন এবং অনিদ্রার সমস্যার সম্মুখীন হন।
সাম্প্রতিক অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগবে। বিবিধ গবেষণায় জানা গিয়েছে ছাত্র ছাত্রী, চাকুরিজীবীরা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ রাখে, এতে চোখের উপর চাপ বাড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা বলছেন যে রিল দেখার ফলে কেবল চোখের উপর চাপই বাড়ে না বরং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক ক্লান্তিও দেখা দেয়।তাই চোখের পলক ফেলার হার বৃদ্ধি করুন, স্ক্রিনের দিকে তাকালে আরও ঘন ঘন পলক ফেলার চেষ্টা করুন। স্ক্রিন টাইম কম রাখুন। মাঝে মধ্যে বিরতি নিন।