নিজস্ব প্রতিনিধি: মিরাটের ব্রহ্মপুরী এলাকায় ঘটে যাওয়া সৌরভ রাজপুতের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সারা দেশে হইচই ফেলে দিয়েছে। একের পর এক অনেক গোপন তথ্য সামনে আসছে এই বিষয়ে। আগে জানা গিয়েছিল যে সৌরভের সঙ্গে মুসকানের বিয়ের পর সাহিল তার জীবনে আসে। তারপর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে সম্পূর্ণ পরিকল্পত ভাবে সৌরভকে হত্যা করে মুসকান। আসল গল্প কিন্তু অন্য।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মুসকান এবং সাহিল দুজনেই ছোটবেলার বন্ধু। একসঙ্গে পড়াশোনা, খেলাধুলা। ব্রহ্মপুরীর বিবেকানন্দ স্কুলে দুজনেই অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত একসঙ্গে পড়াশোনা করে। পরে স্কুল আলাদা হয়ে যায়, নিজেরা নিজেদের জীবনে এগিয়ে যায়। বহু বছর পর, সোশ্যাল মিডিয়া তাদের আবার মিলিয়ে দেয়।
জানা গিয়েছে, বিবেকানন্দ স্কুলের পুরোনো ছাত্র-ছাত্রীরা মিলে একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে। মুসকান এবং সাহিল সেই গ্রুপের সদস্য ছিল। গ্রুপের সাধারণ আলোচনা ক্রমেই আড্ডাই পৌছায়। মুসকান বিবাহিত ছিল, তার স্বামী সৌরভ থাকতেন লন্ডনে। মুসকান এখানে একাই থাকত। ফলে সাহিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে বেশি সময় লাগেনি। শুরু হয় দেখা করা, ঘোরাঘুরি। বন্ধুত্ব কখন যে প্রণয়ের রূপ নিয়ে নেয় তা মুসকান বা সাহিল কেউই বুঝতে পারেনি।
সৌরভের অনুপস্থিতিতে সাহিল মুসকানের বাড়িতে আসত। এই বিষয়টি আবার তাদের বাড়িওয়ালার পছন্দ ছিল না। তিনি সৌরভকে সব জানান। সৌরভ মুসকানকে সাহিলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বলেন। কিন্তু মুসকান সেকথা শোনেনি, বরং সাহিলের সাথে তার সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে।
সাহিলের আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না, তাই মুসকান তাকে টাকা দিত। এমনকি প্রেমিকার কাছ কাছ থেকে বেশ কয়েকবার মাদক ক্রয়ের জন্যও টাকা নিয়েছিল সাহিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সৌরভ লন্ডন থেকে মিরাটে ফিরে আসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুসকান প্রথমে সৌরভকে ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে। ওষুধের জেরে সৌরভ যখন অচৈতন্য, তখন সাহিল তাঁকে ছুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। তারপর দেখা দেয় আসল সমস্যা। মৃতদেহর কী হবে?
সৌরভের দেহ প্রথমে একটি প্লাস্টিকে বড় ব্যাগে রাখার চেষ্টা করে মুসকান ও সাহিল। তাতে সফল না হওয়ায় একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে তাতে ভরে সিমেন্ট বালি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। তারপর সাহিল মুসকান চলে যায় হিমাচল। প্রতিবেশীরা জানতেন মুসকান সৌরভের সঙ্গেই বেড়াতে গিয়েছে। অত্যন্ত বুদ্ধিমতি মুসকান সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল সৌরভের মোবাইল ফোন। সেখান থেকে নিজের ননদের সঙ্গে সৌরভ সেজে সে নিত্য যোগাযোগ রেখেছিল। যাতে সবাই ভাবে যে সৌরভ বেঁচে আছে।
মুসকানের বাবা-মা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন মেয়ের এই কাজকে তাঁরা কোনওভাবেই সমর্থন করেন না। মুসকানের মা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “যখন আমরা শুনলাম যে আমাদের মেয়ে এই সব করেছে, তখন আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম যে আমরা তাকে সমর্থন করব না। সৌরভ খুব ভাল ছেলে ছিল এবং আমাদের মেয়েকে খুব ভালবাসত। তাঁর অবশ্যই ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত।”