নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয়দের ক্যাচ মিসের প্রদর্শনী সত্বেও বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদবদের ঘূর্ণির ফাঁদে পড়ে বড় রানের ইনিংস দাঁড় করাতে পারল না নিউজিল্যান্ড। রবিবার (৯ মার্চ) দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে প্রথম ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান তুলেছেন মিচেল স্যান্টনাররা। ড্যারিল মিচেল (৬৩) ও মিচেল ব্রেসওয়েল (অপরাজিত ৫৩)ছাড়া আর কোনও কিউই ব্যাটার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি। ভারতের হয়ে কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
টসে জিতে এদিন প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। শুরুটা ভালই করেছিলেন দুই কিউই ওপেনার উইল ইয়ং ও রাচিন রবীন্দ্র। সাবলীল ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে রান তুলতে থাকেন দু’জনে। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে রাচিনের ক্যাচ ফস্কান মহম্মদ শামি। সাত ওভারেই বিনা উইকেটে ৫০ রানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। অষ্টম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর প্রথম বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন রাচিন। কিন্তু সেই ক্যাচ ফেলে দেন শ্রেয়স আইয়ার। ওই ওভারের পঞ্চম বলেই প্রথম ব্রেক থ্রু পায় ভারত। দলীয় ৫৭ রানে বরুণের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইয়ং। ২৩ বলে ১৫ রান করেন তিনি।
এরপর ক্রিজে আসা কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন রাচিন। তবে এই জুটি বেশিদূর এগোতে পারেনি। প্রথম পাওয়ার প্লে’র পরের ওভারেই কিউই শিবিরে আঘাত হানেন কুলদীপ যাদব। ২৯ বলে ৩৭ রান করে আউট হন রাচিন। স্কোর বোর্ডে ছয় রান যোগ হতে না হতেই কুলদীপ্বর বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন কিউই শিবিরের বড় ভরসা উইলিয়ামসন (১১)। এর পর চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন টম লাথাম ও ড্যারিল মিচেল। দুজনে ৩৩ রান যোগ করেন। লাথামকে (১৪) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন রবীন্দ্র জাদেজা। এর পর নিউজিল্যান্ডকে টানার চেষ্টা করেন মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। অক্ষর প্যাটেলের বলে বড় শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন মিচেল। কিন্তু বল যায় মিড উইকেটে থাকা ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার হাতে। অনেকটা লাফিয়ে উঠে বলে হাত লাগালেও ক্যাচটি নিতে পারেননি তিনি ওই বল থেকে ২ রান নেন মিচেল। ‘জীবন’ পেয়েছেন ব্যক্তিগত ৩৮ রানে। পরের ওভারেই জীবন পেয়েছেন গ্লেন ফিলিপসও। রবীন্দ্র জাদেজার বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ ফেলে দেন শুভমন গিল। তখন ফিলিপসের রান ছিল ২৭। তবে জীবন ফিরে পেয়েও বেশি দূর এগোতে পারেননি তিনি। ৩৮তম ওভারে বরুণের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফেরেন ফিলিপস (৩৪)।
একের পর এক সতীর্থকে আসতে-যেতে দেখে এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিচেল। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে মাথাঠাণ্ডা করে খেলতে থাকেন তিনি। ৯১ বলে ধীর গতিতে অর্ধশতরান করেন।৪৭তম ওভারে মিচেলকে (৬৩) ফিরিয়ে কিউই শিবিরকে জোর ধাক্কা দেন মহম্মদ শামি। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার মাত্র সাত রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। সাত নম্বরে নামা মিচেল ব্রেসওয়েল ঝোড়ো ব্যাটিং করে ৩৯ বলে অর্ধশতরান করেন। তাঁর অপরাজিত ৫৩ রানের সুবাদেই আড়াইশো রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় কিউইরা।