নিজস্ব প্রতিনিধি : শনিবার (পয়লা মার্চ) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার (৫ মার্চ) যাদবপুর সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নাম না করেই ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন। উদ্বেগের কণ্ঠে বললেন ‘যদি গোয়েন্দারা ব্যর্থ হয়, তাহলে তো আগামী দিনে প্রতিবেশী দেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেটা হতে দেওয়া যাবে না। ঘটনাকে রাজ্যের অন্য অংশের জন্য উদাহরণ হতে দিতে পারি না।’ পাশাপাশি আহত ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত এফআইআর দায়ের করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন ‘গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন ভাবে গোয়েন্দারা নিজেদের কাজে ক্যাজুয়াল মনোভাব দেখালে রাজ্যে আরও বাজে ঘটনা ঘটতে কতক্ষণ’। একইসঙ্গে তিনি জানতে চান, কী করে এই ভিড় মন্ত্রীর এত কাছে চলে এল? যদি গোয়েন্দারা ব্যর্থ হয়, তাহলে তো আগামী দিনে প্রতিবেশী দেশের মত পরিস্থিতি তৈরি হবে।’ আগামী ১২ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪ টায় এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে পতন হয় আওয়ামী লীগ নেত্রী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ এই যাদবপুর কাণ্ডে এই পরিস্থিতি ফের তৈরি হবে কিনা। গোয়েন্দাদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। জখমও হন তিনি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। যাদবপুরে শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় দুই পড়ুয়াও জখম হন। তাঁদের এক জন চোখে আঘাত পান। অন্য জন চোট পান পায়ে।শনিবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পর রাতেও অশান্তি ছড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এমনকী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।