নিজস্ব প্রতিনিধি: মাস ছয়েক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বছর সাতেকের ছোট শিশুকন্যা। প্রথমে জ্বর, এরপর জ্বর থেকে নানা উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর, অনেক চিকিৎসক বদ্দি দেখিয়েও সাত বছরের শিশু কন্যার রোগ নির্ণয় করা যায়নি। ফলে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শিশুর বাবা-মা। চিকিৎসা চলছিল তাঁর। এরপর সন্তানের সঙ্কটমুক্ত কামনা করে বড় সিদ্ধান্ত নেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁরা মনস্থির করেন তাঁদের সন্তান সুস্থ হয়ে গেলে কোনও পুজো অর্চনা করবেন না তাঁরা, বরং কোনও একটি গ্রামে গিয়ে ১০০ জন দরিদ্র বাচ্চাকে দুপুরে পেট ভরে খাওয়াবেন, তাঁদের আহারের ব্যবস্থা করবেন, তা আবার মেয়ের জন্মমাসেই। অবশেষে মেয়ে সুস্থ হতেই কথা রাখলেন দম্পতি। একশো বাচ্চা, কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মিলিয়ে প্রায় পাঁচশো জনকে খাওয়ালেন অন্তরা দত্ত এবং তাপস ঘোষ নামের ওই দম্পতি।
দম্পতি পেশায় বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী। তাঁরা মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা। মাস ছয়েক আগেই তাঁদের একরত্তি কন্যা আরাত্রিকা আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। খুব জ্বর হয় তাঁর। কিছুতেই জ্বর কমছিল না তাঁর। জ্বরের সঙ্গে নানা উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর। ডেঙ্গি হয়েছে ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আরাত্রিকার বাবা – মা। কিন্তু ছোট্ট আরাত্রিকার রক্তে ডেঙ্গি ধরা পড়েনি। কিন্তু ১০-১২ দিন ধরে মেয়ের জ্বর না কমলে বাবা তাপস ঘোষ স্থির করেন, আরাত্রিকা সুস্থ হলেই তিনি গ্রামের গরিব শিশুদের জন্যে আহারের ব্যবস্থা করবেন। তাই মেয়ে সুস্থ হতেই মেয়ের জন্মমাসেই বিশাল আহারের আয়োজন করেন তাঁরা।
তারা ভুরসা গ্রামে দুঃস্থদের খাইয়েছেন। এ বিষয়ে গ্রাম প্রধান সঞ্জয় দত্ত বলেছেন, তাপস ঘোষ ও অন্তরা দত্ত গ্রামে দুঃস্থ বাচ্চাদের খাওয়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। তাঁরা একশো জনকে পোলাও, ভাত, মাংস খাওয়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে এলাহি খাবারের আয়োজন না করে মোট পাঁচশো জনের খাওয়ার আয়োজন করছিলেন তাঁরা। তাঁদের এমন উদ্যোগে খুশি গোটা গ্রামবাসী। আর পোলাও, ভাত, মাংসের পরিবর্তে খিচুড়ি, আলু পোস্ত, চাটনি, মিষ্টি, পাঁপড় খাওয়ানোর আয়োজন করেছিলেন তাঁরা।