নিজস্ব প্রতিনিধি : বাঙালির ‘নিজস্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বলতে উঠে আসে সরস্বতী পুজোর কথা।মাঝে আর দুটো দিন।এরপরেই বাগদেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে ভক্তরা। সনাতন ধর্ম অনুসারে সরস্বতী হল বিদ্যা, শিল্পকলা ও সঙ্গীতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। আবার বলা হয় অতীতে দেবী সরস্বতী ছিল জলের দেবী। কিন্তু কীভাবে এই দেবীর জন্ম হল তা জানেন কী ? সে নিয়ে পুরাণে এক আশ্চর্য গল্প আছে। তবে জানুন বিদ্যার দেবীর জন্মের ইতিহাস।
বলা হয় হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ আসনে থাকা ত্রিদেব হলেন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। তারাই হলেন জগতের ত্রিমূর্তি। ব্রহ্মা হলেন সৃষ্টির কারক, বিষ্ণু হলেন প্রতিপালক ও মহেশ্বর হলেন ধ্বংসের দেবতা। জগতে যেমন সৃষ্টির প্রয়োজন আছে তেমনই পালনের ও প্রয়োজন।আবার ধ্বংস না করলে নতুন কিছু সৃষ্টি হয় না। তাই ধ্বংসের দেবতা হিসেবে মহাদেবকে দেখানো হয়েছে।
ত্রিদেবের মধ্যে অন্যতম হলেন ব্রহ্মা।পুরাণ অনুসারে ব্রহ্মা হলেন স্বয়ম্ভু। অর্থাৎ তাঁর কোনও পিতা ও মাতা নেই। তিনি নিজেই নিজের জন্ম দিয়েছেন।এই আশ্চর্য জন্মের পর ব্রহ্মা ধ্যানে বসেন। সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে। এই ভাবেই ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর।
আরও পড়ুন : সরস্বতী পুজোর দিন ভুলেও এই কাজগুলি করবেন না, জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে…
বলা হয় ব্রহ্মার প্রথমে একটিই মুখ ছিল। অত্যন্ত সুন্দর সেই দেবীকে দর্শন করার জন্যই ব্রহ্মার আরও চারটি মুখের সৃষ্টি হয়। আবার বলা হয় ব্রহ্মা নাকি সরস্বতীর উপর নজর রাখার জন্য ৪ টে মাথা তৈরি হয়। এই নিয়ে নানান ভিন্ন ভিন্ন মত রয়ছে। যদিও শিব ও পার্বতীর মেয়ে হিসেবেই বাঙালিরা সাধারণ ভাবে দেখতে অভ্যস্ত দেবী সরস্বতীকে।কিন্তু আদতে শিব পার্বতীর মেয়ে নয় সরস্বতী। বাগদেবীর সৃষ্টি হয়েছিল ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে।