নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ইচ্ছে ছিল, সিকিম থেকে ঘুরে এসে বাড়িতে ধুমধাম করে সরস্বতী পুজো করার। তবে সেই ইচ্ছাপুরণ আর হল না উত্তর চব্বিশ পরগণার নিউ ব্যারাকপুরের শাসমল পরিবারের। বাড়িতে কফিনবন্দি হয়ে এল উত্তর সিকিমে বেড়াতে গিয়ে খাদে গাড়ি পড়ে মৃত শোভন শাসমলের স্ত্রী এবং আড়াই বছরের মেয়ের দেহ। সারা শরীরে চোট নিয়ে মঙ্গলবার অ্যাম্বুল্যান্সে বাড়ি ফিরছেন শোভন শাসমল।পেশায় গৃহশিক্ষক শোভন, স্ত্রী পায়েল ও আড়াই বছরের মেয়ে শ্রীনিকাকে নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর উত্তর সিকিম বেড়াতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে গিয়েছিল শোভনের মামাতো ভাইয়ের পরিবারও। ছ’জনে গাড়িতে করে শনিবার জুলুকে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গাড়ির পিছনের দিকে ছিলেন শোভন ও তাঁর পরিবার।
জুলুক দেখে রোলেপ যাওয়ার পথে লামাটেনের কাছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়ি খাদে গিয়ে পড়ে। শ্রীনিকা তখন মায়ের কোলে। খাদে পড়ার মুহূর্তে একরত্তিকে বাঁচাতে পায়েল কোল থেকে মেয়েকে ফেলে দিয়েছিলেন। শ্রীনিকা খাদে পড়লেও গভীরে গিয়ে পড়েনি। কিন্তু পায়েল খাদের অনেকটাই নীচে গিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। শ্রীনিকা উদ্ধারের পরেও বেঁচেছিল।কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। শোভন গুরুতর জখম হয়েছেন। গাড়ির মাঝে থাকা শোভনের মামাতো ভাই ও তাঁর স্ত্রীও চোট পেয়েছেন। তাদের বাচ্চাকে গাড়ি খাদে পড়ার মুহূর্তে জানলা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলায় সে বেচে গিয়েছে।
রবিবার বিকেলে পায়েল ও শ্রীনিকার দেহের ময়নাতদন্ত হয়ে যায়। রাতেই বাগডোগরা হয়ে কফিনবন্দি দেহ বাড়িতে ফেরে। আহত শোভন তখনও ফেরেননি। তাই স্ত্রী–কন্যার শেষকৃত্য এখনও করা হয়নি। দেহ দু’টি রাখা হয়েছে নিউ ব্যারাকপুরের পিস হাভেনে। মঙ্গলবার অ্যাম্বুলেন্সে শোভন সহ বাকি আহত ফিরবেন নিউ ব্যারাকপুরে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভন শেষবারের জন্য স্ত্রী ও মেয়ের মুখটা দেখতে চেয়েছেন। শোভনের বন্ধু বিকাশ সিনহা বলেন, ‘ওর স্ত্রীর মুখটা যে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। কী ভাবে সেই মুখ দেখবে। সেটা আর বলতে পারিনি ওকে।’ শোভনের মা পিয়ালি শাসমল বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। একমাত্র নাতনির জন্য এ বছর বাড়িতে ধুমধাম করে সরস্বতী পুজোর কথা ছিল। কিন্তু নাতনিই তো আর রইল না।’ দুর্ঘটনার আগের দিন শুক্রবার শোভন বাড়িতে ফোন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, বাবার শরীর কেমন আছে। বৌমার সঙ্গেও কথা হয়েছিল শাশুড়ির।