নিজস্ব প্রতিনিধি,সুন্দরবন: বাঘ ও মানুষের খন্ড যুদ্ধের পর জয়ী হলেন মানুষ। ক্যানিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৎস্যজীবী কালিপদ মণ্ডল। সেই লড়াইয়ের কথা শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে রীতিমতো।সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া নদী, খাঁড়িতে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের(Tiger) হামলার মুখে পড়লেন এক মৎস্যজীবী। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন কালিপদ মণ্ডল(Kalipada Mondal) নামে ঐ মৎস্যজীবী। গোসাবার ছোট মোল্লাখালি ৯ নম্বর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তিন সঙ্গী মিলে গত বৃহস্পতিবার ভোরবেলা বের হন মাছ, কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। শনিবার দুপুরে চামটার জঙ্গল(Chamta Forest) লাগোয়া খাঁড়িতে মাছ ধরার সময় বাঘের আক্রমনের শিকার হন। সঙ্গীরাই বাঘের সাথে লড়াই করে ছাড়িয়ে আনেন কালিপদকে।
শনিবার রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় ছোট মোল্লাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। রবিবার সকালে তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে বসে জানালেন কালিপদ মন্ডল তার কাছে বৈধ মাছ ও কাঁকড়া ধরার লাইসেন্স না থাকলেও সঙ্গীদের সঙ্গে রুজি রোজগারের জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছিলেন সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে। গভীর জঙ্গলে(Deep Forest) যখন সে প্রবেশ করেছিল তখন একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার তার উপর অতর্কিতে আক্রমণ করে। প্রথমে কোমরে আঁচড় দেওয়ার পর হাতে কামড় দিয়ে তাকে টেনে নিয়ে গভীর জঙ্গলে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঘটি।
ইতিমধ্যে কালিপদ মন্ডল এর আর্তনাদে তার সঙ্গে থাকা বাকি সঙ্গীরা হাতে কুড়ুল ও লাঠি নিয়ে ছুটে আসে। একাধিক লোক দেখে বাঘ মশাই ভয়ে কালিপদ মন্ডলকে ছেড়ে দিয়ে লাফ মেরে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। প্রাণে বাঁচেন কালিপদ মন্ডল। তবে এই ঘটনায় তিনি একেবারেই আতঙ্কিত নন। কারণ সুন্দরবনের মানুষ ডাঙ্গায় বাঘ আর জলেতে কুমিরের(Cocodial) সঙ্গে লড়াই করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাই সুস্থ হলে আবার গভীর জঙ্গলে খাড়িপথে রওনা দেবেন কাঁকড়ার সন্ধানে। অপেক্ষা এখন সুস্থ হওয়ার।