নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গাপুজো মিটে গিয়েছে আগেই। লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো, ভাইফোঁটাও হয়ে গিয়েছে। এদিন ছট পুজো। আগামিকাল সকালেই তাও মিটে যাবে। জগদ্ধাত্রী পুজো আগামিকাল থেকে সোমবার পর্যন্ত চলবে। সেই হিসাবে উৎসব মরশুমের একটা বড় অংশই শেষ হয়ে যাচ্ছে চলতি সপ্তাহে। থাকছে পড়ে রাসযাত্রা আর কার্তিক পুজো। এই আবহেই আগামী সোমবার পাহাড়ে(Darjeeling) পা রাখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। ১১ নভেম্বর তাঁর দার্জিলিং পৌঁছনোর কথা। এবারই প্রথম দার্জিলিংয়ে সরস মেলা(Saras Mela) হচ্ছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের উদ্যোগে। ম্যালের চৌরাস্তায় টানা ১১ দিন ধরে তা চলবে। আগামী ১২ নভেম্বর সেই মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই মেলাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পীরা যোগ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে পাহাড়ে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনের পরে এতাই হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম পাহাড় সফর। অনেকেরই আশা ছিল এবারের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রটি তৃণমূলের দখলে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। পাহাড়ে তৃণমূল প্রার্থী লিড পেলেও সমতলে বাড়তি লিড পান বিজেপি প্রার্থী। আর সেই কারণেই এই প্রথম সমতলের ভোটে দার্জিলিং কেন্দ্রে জয়ের মুখ দেখে বিজেপি। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছিল অনীত থাপার(Anit Thapa) গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। কিন্তু তারপরেও জয় আসেনি। সেই নিয়ে সাময়িক একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল দুই দলের মধ্যে। পরে অনীত নিজেই কলকাতায় এসে সেই দূরত্ব মিটিয়েছেন। নবান্নে তিনি বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। এবার তো তাঁকে মাদারিহাটে তৃণমূল প্রার্থীর হয়েও প্রচার করতে দেখা যাচ্ছে। সেই সুবাদে মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফরের মাঝে জিটিএ(GTA) নিয়ে বড় কোন ও ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন, কল আছে, জল নেই, এমন ৫ লক্ষ বাড়িতে ডিসেম্বরেই পৌঁছে যাবে সংযোগ
এবার একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে এবার পাহাড়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কর্মসূচীর মধ্যে সর্বাগ্রে থাকছে জিটিএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। একই সঙ্গে, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক হবে তাঁর। জিটিএ পরিচালনার ক্ষেত্রে অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে যাবতীয় সহায়তা দিচ্ছে তৃণমূল। অনীতদের প্রস্তাব মেনে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলছে রাজ্যের উদ্যোগে। ফলে জিটিএ এবং প্রশাসনিক বৈঠকে ঠিক হবে আগামী দিনে উন্নয়নের রূপরেখা। পাহাড়ে ৩ পুরসভার বকেয়া নির্বাচনে নিয়েও এবার আলোচনা হতে পারে। ফলে রাজনৈতিকভাবেও তাঁর এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ তারিখ কলকাতায় ফেরার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।