নিজস্ব প্রতিনিধি: এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ(Sandip Ghosh) । ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে চেয়ে হাইকোর্টের(Kolkata High Court) কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কারণ হিসেবে সন্দীপ জানান,পারিবারিক খরচ-সহ একাধিক খরচ সামাল দিতে ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে হবে তাঁকে। বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক এই মামলার শুনানির দায়িত্বে থাকতে পারেন। আরজি কর ঘটনার পর আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে সন্দীপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি, ফলে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে প্রাক্তন অধ্যক্ষকে। আদৌ বিষয়টিতে হাইকোর্টে গুরুত্ব দেবে কিনা সেবিষয়েও সন্দেহ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ CPR দিয়ে সাপের প্রাণরক্ষা, অসাধ্যসাধন করে দেখালেন গুজরাটের যুবক
তিলোত্তমা কাণ্ডের রেশ ধরেই ইডি-র তদন্তে বের হয়ে আসে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলা একাধিক দুর্নীতি। হাসপাতালের বর্জ্য পাচার থেকে শুরু করে দেহ পাচার এবং ওষুধ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচারেরও অভিযোগ উঠেছে যার মূল কাণ্ডারি সন্দীপ ঘোষ। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন, এমনকি দেহরক্ষীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও অবৈধ অর্থের সন্ধান মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস জানতে চলছে তদন্ত। যদিও সন্দীপ ঘনিষ্ঠদের তরফ থেকে কোনও গোপন তথ্যের হদিশ মেলেনি।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে দুই যুবকের লালসার শিকার ডিভোর্সি মহিলা
আরজি করের মূল মামলায় গ্রেফতার না হলেও একাধিক দুর্নীতি মামলায় জর্জরিত সন্দীপ। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে সন্দীপ ঘোষকে জেরা করে ইডি। ক্যানিং-২ ব্লকের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সন্দীপ ঘোষের একটি বাংলো বাড়ির হদিশ মিলেছিল। নিউটাউন সংলগ্ন হাতিয়ারা নোয়াপাড়ায় সন্দীপ ঘোষের একটি তিনতলা বাড়ির খোঁজ মেলে। বেলেঘাটায় আরও দুটি ফ্ল্যাটের সন্ধানও পান গোয়েন্দারা। এই সম্পত্তি গুলি বৈধ উপায়ে সন্দীপ নিজের অধীনস্থ করেছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ‘তিলোত্তমা মামলা’ এখনও অমিমাংসিত। জুনিয়র ডাক্তারেরা ন্যায্য অধিকার পাওনার লড়াইয়ে পথে নামলেও মেলেনি বিচার। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতেও সরকার সিবিআই এবং ইডি-কে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।