নিজস্ব প্রতিনিধি : আজ হল অষ্টমী। দিকে দিকে মাতৃ আরাধনায় মেতেছে ভক্তরা। বাঙালির পেট পুজো বলে কথা। ভাল মন্দ না হলে কি চলে। তবে লুচি-পোলাও তো অনেক হল। স্বাদ বদল করতে একদিন না হয় বানিয়েই নিন ‘রাজ কচুরি’। কথার মধ্যে লুকিয়ে আছে রাজকীয়তা। স্বাদে গুণে সবার সেরা। এটি লুচির মতো ছিঁড়ে আলুর তরকারি দিয়ে খাওয়ার নিয়ম নেই। এটিকে স্রেফ মুখে পুরে দিতে হয়। ফুচকার দাদু বললেও চলে। খুব কম সময়ে বানিয়ে নিতে পারবেন। শুধু এর গর্তটি একটু বড় থাকে। তাতে থাকে আলুর স্টাফিং, তেঁতুল ও ধনেপাতার চাটনি, দই, চাট মশলা। উপরে ছড়ানো থাকে ঝুরি ভাজা, ধনে পাতা আর বেদানার দানা। চটপটা কিছু খেতে মন চাইলে, অবশ্যই ট্রাই করুন এই পদটি। জেনে নিন তৈরির সহজ পদ্ধতি।
উপকরণ : ডো-এর জন্য যা লাগবে, ২ কাপ সুজি বা ময়দা, বেকিং সোডা, স্বাদমতো লবন
স্টাফিংয়ের জন্য লাগবে, ২ কাপ বেসন, লঙ্কার গুঁড়ো, ঘি, বেকিং সোডা, স্বাদমতো লবন ও সামান্য জল
চাট মশলার জন্য লাগবে, গোটা জিরা, মৌরি, গোটা ধনে, গোল মরিচ, লঙ্কার গুঁড়ো, নুন ও আমচুর পাউডার
পুরের জন্য লাগবে, ১টি বড় সেদ্ধ আলু, সেদ্ধ করে ডুমো করে কাটা, ১টি ছোটো পেঁয়াজ (কুচোনো), ২টি কাঁচালঙ্কা (কুচোনো), ঘুগনির মটন সেদ্ধ- আধ কাপ, ধনে পাতা কুচি, বিট লবন, ২ খানা পাতিলেবুর রস ও ১/২ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো
এছাড়াও লাগবে, ভাজার জন্য সাদা তেল, ধনেপাতার চাটনি, তেঁতুলের চাটনি, ভালো করে ফেটিয়ে রাখা দই, ধনে পাতা কুচি, ঝুরিভাজা ও বেদানার দানা
প্রণালী : প্রথমে চাট মশলা তৈরি করে আলাদা করে রেখে দিন। এবার একটি শুকনো কড়াইয়ে জিরা, মৌরি, ধনে, গোলমরিচ হালকা ভাবে ভেজে তুলে নিন। একটি পাত্রে এটি তুলে নিয়ে তাতে লবন লঙ্কার গুঁড়ো ও আমচুর পাউডার মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি মিক্সিতে মিহি করে গুঁড়ো করে নিন।
চাট মশলার পর বানিয়ে ফেলুন কচুরির ডো। এর জন্য একটি পাত্রে সুজি, ময়দা, বেকিং সোডা, নুন এবং সামান্য জল যোগ করে একটি ডো তৈরি করুন। এটি অন্তত আধ ঘণ্টা একটি পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিন।
আরও পড়ুন : পুজোর মাঝে বানিয়ে নিন ‘পাঁঠার বাংলা’, একবার খেলে বারবার খাবেন
এর পর বানিয়ে ফেলুন কচুরির পুর। একটি পাত্রে সেদ্ধ আলু, কাঁচা লঙ্কা কুচি, সেদ্ধ মটর, ধনে পাতা কুচি, বিট নুন, লেবুর রস এবং গোলমরিচের গুঁড়ো নিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে আলাদা করে রাখুন। এভাবে বানিয়ে ফেলুন কচুরির পুর।
এবার একটি পাত্রে বেসন, লঙ্কার গুঁড়ো, নুন, বেকিং সোডা, বেকিং পাউডার, ঘি এবং সামান্য জল যোগ করে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে তেঁতুলের চাটনি বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন। পাত্রে দুই কাপ জল বসিয়ে তাতে আধ কাপ তেঁতুল এবং ২/৩ কাপ গুড় দিয়ে কম করে ১০ মিনিট ফোটাতে থাকুন। এবার মিশ্রণটি ভালো ভাবে ছেঁকে নিয়ে ফের সসপ্যানে ঢেলে দিয়ে গরম করতে থাকুন।
অন্য একটি পাত্রে এক টেবিল চামচ তেল গরম করে তাতে আধ চামচ করে গোটা জিরা এবং মৌরি ফোঁড়ন দিন। সঙ্গে দিন ২-৩টি শুকনো লঙ্কা। মশলার সুগন্ধ উঠলে সেটি ছেঁকে নেওয়া ফুটন্ত চাটনিতে ঢেলে দিন। চাটনি ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন।
এবার কচুরি ভাজার পালা। ময়দার ডো-এর লেচি কেটে সামান্য বেলে তাতে বেসনের পুর ভরে বেলে নিন। বেলার সময় তেলের বদলে ময়দা ব্যবহার করবেন। কড়াইয়ে সাদা তেল গরম করে মাঝারি আঁচে কচুরি ভাজুন। ধীরে ধীরে দেখবেন কচুরি ফুলে উঠছে। তবে সেগুলি যতক্ষণ না সোনালি হয়ে মুচমুচে হয়ে যাচ্ছে ততক্ষণ ভাজতে হবে।
ভাজা কচুরি টিস্যু পেপারে তুলে রাখুন। এবার একেবারে পেশাদার চাট বিক্রেতার মতো কচুরিগুলি সাজিয়ে ফেলুন। কচুরির গায়ে ফুচকার থেকে একটু বড় গর্ত করে চামচে করে এক চামচ আলুর পুর ভরে নিন। তার পর যথাক্রমে ধনে পাতার চাটনি, তেঁতুলের চাটনি, দই এবং চাট মশলা দিয়ে দিন। স্টাফ করা কচুরির উপর ছড়িয়ে দিন ঝুরি ভাজা, ধনে পাতা এবং বেদানার দানা। ব্যস রেডি ‘রাজ কচুরি’।