নিজস্ব প্রতিনিধি: ৩৮০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য। এতদিন রতন টাটাই(Ratan Tata) ছিলেন তার রক্ষক। কিন্তু তাঁর অবর্তমানে কে হবেন সেই রক্ষক? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল গত ২ দিন ধরে। শেষে দেখা গেল রতন টাটার সৎ ভাই নোয়েল টাটাকেই(Noyel Tata) বেছে নেওয়া হল Tata Trusts’র পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসাবে। এদিনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রতন টাটা ছিলেন টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার। কিন্তু তাঁর প্রয়াণের পরে টাটা সাম্রাজ্যের হাল কে ধরবেন তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছড়িয়েছিল দেশজুড়ে। সেই জল্পনা যেমন ছড়িয়েছিল আমজনতার মধ্যে তেমনই সেই নিয়ে তীব্র আগ্রহ ছিল দেশের শিল্পপতিদের মহলেও। কার্যত সেই জল্পনার মাঝে ঘুরছিল একাধিক নাম। সেই সব নামের মধ্যে নোয়েল ছাড়াও ছিলেন মায়া টাটা, নেভিল টাটা, লিয়া টাটাও। কিন্তু এদের পিছনে ফেলে নোয়েলই হয়ে উঠলেন Tata Trusts’র নতুন চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন, বাংলাদেশের যশোরেশ্বরী মন্দিরে মুকুট চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এল প্রকাশ্যে
নোয়েল শুধু রতন টাটার সৎ ভাই নন, তিনি আত্মীয়তার সূত্রে শাপুরজি-পালোনজিদের সঙ্গেও সম্পর্কিত। Tata Sons’র ১৮.৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে শাপুরজি-পালোনজিদের হাতে। সেই শাপুরজি-পালোনজিদের মেয়ে আলু মিস্ত্রী নোয়েলের স্ত্রী। আবার আলু হলেন প্রয়াত সাইরাস মিস্ত্রীর(Cyrus Mistry) নিজের বোন। অর্থাৎ সাইরাসকে ঘিরে টাটা ও শাপুরজি-পালোনজিদের মধ্যে যে দূরত্ব দেখা গিয়েছিল সেই দূরত্ব এবার আগামী দিনে মিটলেও মিটতে পারে। আর তার ইঙ্গিত মিলেছে গতকাল দুপুরেই। শাপুরজি-পালোনজি গোষ্ঠীর তরফে রতন টাটার মৃত্যুতে দেওয়া হয়েছে শোকবার্তা। Tata Sons’র চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাইরাস মিস্ত্রির অপসারণের পরে তাঁকে ঘিরে ইতিহাসের অন্যতম তিক্ত এবং দীর্ঘ কর্পোরেট লড়াই দেখেছিল গোটা দেশ। তর্কে-বিতর্কে মামলা-মোকদ্দমায় দু’পক্ষের সম্পর্ক শীতল থেকে শীতলতর হয়েছে। ২০২২ সালের জুনে পালনজি মিস্ত্রি এবং সেপ্টেম্বরে পথ দুর্ঘটনায় সাইরাসের মৃত্যুর পরে Tata Sons’র পক্ষ থেকে শোকবার্তা প্রকাশ করা হলেও, রতন টাটা নীরব ছিলেন।
আরও পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি IMA’র রাজ্য শাখার, ক্ষুব্ধ জনতা
অথচ ২০১১ সালে এই সাইরাসকে Tata Sons-এ নিজের উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি নিজেই। তবে পরিচালনায় নজরদারি করতে Tata Trusts’র চেয়ারম্যানের পদ নিজের হাতে রেখেছিলেন। ঘটনা হচ্ছে, রতন টাটার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা শাপুর মিস্ত্রী শুধু শাপুরজি-পালোনজি গোষ্ঠীর বর্তমান চেয়ারম্যানই নন, তিনি সাইরাসের নিজের ভাই ও সেই সূত্রেই নোয়েল টাটার শ্যালক। আলু মিস্ত্রি শাপুরের বোন। টাটা ও শাপুরজি গোষ্ঠীর মধ্যে চূড়ান্ত মতবিরোধ, এমনকি আইনি লড়াই যে দুই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে, সেই দু’জনই, রতন টাটা এবং সাইরাস মিস্ত্রি আজ প্রয়াত। আর তাই দুই গোষ্ঠীর কেউই তিক্ততা সামনে টেনে নিয়ে চলতে চাইছেন না। সেই তিক্ততার অবসানে নোয়েলই হয়ে উঠতে পারেন সব থেকে ভালো সেতু। এখন তাই অনেকেই মনে করছেন, টাটা গোষ্ঠীতে আগামী দিনে নোয়েলের হাত ধরেই শাপুরজিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। এমনকি এটাও শোনা যাচ্ছে, রতন টাটার আমলে গৃহীত বেশ কিছু ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তেরও পুনর্মূল্যায়ণ হবে।