নিজস্ব প্রতিনিধি, জামশেদপুর: টাটা গোষ্ঠীর কর্ণধার রতন টাটার প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন বিভিন্ন পদ্ধতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছে ভারতীয় শিল্প মহলের প্রয়াত মহীরুহকে। তবে খানিকটা ভিন্ন পথে হাঁটল টাটাদের হাত ধরে আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে ওঠা জামশেদপুরের (পূর্বতন টাটানগর) ৩৩২টি দুর্গাপুজো কমিটি। শহরের অন্যতম রূপকারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার মহাসপ্তমীর দিনে মাইকে গান বাজানো বন্ধ রাখলেন আয়োজকরা। সেই সঙ্গে বাতিল করে দিলেন সমস্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ টাটা গোষ্ঠীর এমিরেটাস চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ শিল্পপতি রতন টাটা গত বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দাবানলের মতোই ওই দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশ জুড়ে। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। যার হাত ধরে জামশেদপুর আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে উঠেছিল তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের খবর পেয়েই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্রীয় দুর্গাপুজো কমিটির পদাধিকারিরা। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়, রতন টাটার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার মহা সপ্তমীর দিন মাইকে গান বাজানো বন্ধ রাখা হবে। এমনকি ঢাক-সহ কোনও বাদ্যযন্ত্রও বাজানো হবে না। শুধুমাত্র পুজোর সময়টুকুতেই ঢাক ও মাইক বাজানো হবে।
জামশেদপুর কেন্দ্রীয় দুর্গাপুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ সিংহ জানিয়েছেন, রতন টাটার মতো জনদরদী মানুষের মৃত্যু সমাজের পক্ষে বড় ধাক্কা। জামশেদপুরের উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর প্রয়াত এমিরেটাস চেয়ারম্যান। তাই তাঁর মৃত্যু গোটা জামশেদপুরবাসীর কাছেই বড় ধাক্কা। রতন টাটার মৃত্যুর খবর পেয়েই কেন্দ্রীয় দুর্গাপুজো কমিটির তরফে ৩৩২টি পুজো কমিটির কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, শোকস্তব্ধ পরিবেশে যেন এদিন মাইক না বাজানো হয়। তাতে সবাই সাড়া দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি মণ্ডপে টাটা গোষ্ঠীর প্রয়াত কর্ণধারের ছবি টাঙিয়ে শোকজ্ঞাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল।