নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সংবাদমাধ্যম থেকে টেলিকম, ওষুধ শিল্প থেকে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র-একাধিক বাংলাদেশি সংস্থায় মেধার জোরে উচ্চপদে কর্মরত ভারতীয়রা। যদিও ৫ অগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই প্রাণ বাঁচাতে ফিরে গিয়েছেন নিজের দেশে। এবার বাংলাদেশকে ‘ভারত শূন্য’ করার কাজে নামলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর প্রথম সারির নেতা মাহফুজ আলম ও তার দুই সঙ্গী সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। গত চার দিন ধরেই বাংলাদেশের প্রথম সারির শিল্পপতিদের ডেকে ‘তালিবানি’ ফতোয়া দিয়েছেন তিনজন। ওই ফতোয়াতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোনও সংস্থায় কোনও ভারতীয়কে রাখা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করে কোনও শিল্পপতি যদি ভারতীয়কে সংস্থায় রাখেন কিংবা নতুন করে কোনও ভারতীয়কে রাখেন, তাহলে পরিণতি ভাল হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ওই হুমকি পাওয়ার পরে রীতিমতো আতঙ্কিত বাংলাদেশের একাধিক শিল্প সংস্থা।
বাংলাদেশের বণিক সভাগুলি সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনা জমানায় ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সুসম্পর্কের কারণে একাধিক শিল্পসংস্থায় মূলত ম্যানেজমেন্ট ক্ষেত্রে প্রচুর ভারতীয়কে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওষুধ, পোশাক, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, তথ্য-প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, টেলকম, নির্মাণ, চিকিৎসা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারতীয়দের মেধা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিভিন্ন শিল্পসংস্থার কর্ণধাররা। তার মধ্যে যেমন রয়েছে স্কয়্যার গ্রুপ, তেমনই রয়েছে বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, নাসা, সামিট, অরিয়ন, এস আলম, নিলয়-নিটল, নাবিল, গাজী গ্রুপ সহ দেশের শীর্ষ সারির শিল্প সংস্থাগুলি। প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার ভারতীয় বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।
এবার ওই ভারতীয়দের কাজ থেকে তাড়ানোর জন্য শিল্পসংস্থাগুলির কর্ণধার ও শীর্ষ কর্তাদের ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন। খোদ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা মাহফুজ আলম ও তার দুই ঘনিষ্ঠ তথা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতীয় খেদাও কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিল্প সংস্থার কর্ণধাররা জানিয়েছেন, তাদের সংস্থায় কর্মরত ভারতীয়দের চাকরি থেকে তাড়িয়ে সেখানে বাংলাদেশি কিংবা পাকিস্তানিদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা জমানার অবসানের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ জুড়ে অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে জঙ্গি ও মৌলবাদীদের। বিভিন্ন শিল্পপতিদের কাছ থেকে মোটা টাকা চাঁদা আদায় করছে হিযবুত তাহরী, হুজি, জামায়ুতযুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি। চাঁদা না দেওয়ার অপরাধে ‘গাজী গ্রুপ’, ‘আরএফএল’ এর বেশ কয়েকটি কারখানা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আতঙ্কে কাটাচ্ছেন শিল্পপতিরা। ইতিমধ্যেই আড়াইশোর বেশি দেশি-বিদেশি সংস্থা পাততাড়ি গোটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।