নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিদেশ মন্ত্রকে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমানায় নিযুক্ত আধিকারিকদের উপরে নেমে এসেছে বদলির খড়গ। এবার দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করে নিল বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রক। অবিলম্বে তাঁকে দিল্লি ছেড়ে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার দাবি জোরালো করার জন্যই রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমানকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের জুলাই মাসে দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিদেশ ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের দুঁদে আধিকারিক মোস্তাফিজুর রহমানকে। তিনি মহম্মদ ইমরানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত হিসাবে যোগ দেওয়ার আগে একাধিক দেশে বাংলাদেশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব সামলেছিলেন। দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত হিসাবে যোগ দেওয়ার আগে সুইৎজারল্যান্ডেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর এবং দিল্লিতেও বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব সামলেছিলেন।
আজ মঙ্গলবার আচমকাই মোস্তাফিজুর রহমানকে দিল্লি ছেড়ে অবিলম্বে ঢাকায় ফিরে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাজমুল হকের স্বাক্ষর করা আদেশে বলা হয়েছে, আপনাকে সদর দপ্তর, বিদেশ মন্ত্রকে বদলির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আপনার বর্তমান দায়িত্ব ত্যাগ করে অনতিবিলম্বে ঢাকা সদর দপ্তরে প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। শুধু দিল্লির রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমানই নন, আরও চার রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই চার রাষ্ট্রদূত হলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, মাহবুব হাসান সালেহ (বাংলাদেশ দূতাবাস ব্রাসেলস), হাইকমিশনার এম. আল্লামা সিদ্দিকী (ক্যানবেরা) ও রাষ্ট্রদূত রেজিনা আহমেদ (বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন)।