আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হিজবুল্লাহ প্রধান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর হাশেম সাফিউদ্দীনের হাতে আপাততভাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাশেম সাফিউদ্দীনই হল নাসরুল্লাহর সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী। তাঁকে ২০১৭ সালে আমেরিকা সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
নিহত হয়েছেন হিজবু্ল্লাহ প্রধান নাসরুল্লাহ। শনিবার(২৮ সেপ্টেম্বর)স্থানীয় সময় সন্ধ্যের দিকে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল সংগঠনটি। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ‘হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহ সংগঠনটির শহীদ কমরেডদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। যাদের তিনি ৩০ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁদের মনে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।’
সদ্যই হিজবুল্লাহর সদর দফতর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল।এই হামলায় সংগঠনটির প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর নিহতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সবার প্রথমে নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। এই নিয়ে তাঁরা(ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী)জানিয়েছিল, ‘শুক্রবার বৈরুতে হামলায় হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছে। হাসান নাসরুল্লাহ ছাড়াও নিহত হয়েছে হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের কমান্ডার। হাসান নাসরুল্লাহ আর বিশ্বকে আতঙ্কে রাখতে পারবে না।’ যদিও তখনও পর্যন্ত হিজবুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে নি হিজবুল্লাহ। তাঁরা জানিয়েছিল, শুক্রবার রাত থেকে নাসরুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায় নি নাসরাল্লাহর সঙ্গে। এবার ইজরায়েলের পর নাসরুল্লাহর মৃত্যু নিশ্চিত করল হিজবুল্লাহও।
কে ছিল নাসরুল্লাহ : ইজরায়েল এর কাছে অন্যতম ‘ছায়াশত্রু’ ছিল হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ। লেবাননের শিয়া মুসলিম সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান ছিলেন শেখ হাসান নাসরুল্লাহ। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অন্যতম পরিচিত এক মুখ ও সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে একজন। এদিকে হাসান নাসরুল্লাহর সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধান শত্রু ইরানের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। হিজবুল্লাহকে একটি রাজনৈতিক শক্তি ও বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠার পেছনে নাসরুল্লাহর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯২ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে হিজবুল্লাহর প্রধান হন নাসরুল্লাহ। প্রায় ৩০ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি।
তবে নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে হিজবুল্লাহ। এমতাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘শান্তি’ শব্দটি যেন দু:স্বপ্ন বলা চলে। যদিও এখনও পর্যন্ত ইজারায়েলকে নিয়ে কোন মন্তব্য করে নি হিজবু্ল্লাহ। নাসরুল্লাহর প্রতি তাঁর সমর্থকদের শ্রদ্ধা–ভালোবাসা এতটুকু কমেনি বলে জানিয়েছে তাঁরা।