নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রের হারে মহার্ঘ্য ভাতার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। সেই সংক্রান্ত মামলা ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলাতে বার বার দেখা যাচ্ছে, শুনানির দিন ধার্য হলেও শেষ মুহুর্তে তা আর হচ্ছে না। দিন পিছিয়ে যাচ্ছে শুনানির। এবার একই ছবি দেখা যাচ্ছে রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির ক্ষেত্রে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি কেড়ে(26 Thousand Peoples Job Lost Case) নেওয়া সংক্রান্ত মামলাটির ক্ষেত্রেও। বার বার শুনানির দিন ধার্য হচ্ছে, আর একদম শেষ মুহুর্তে এসে তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এদিন ছিল এই চাকরি বাতিলের মামলার শুনানির দিন। কিন্তু এদিনও এই মামলার শুনানি হয়নি দেশের শীর্ষ আদালতে(Supreme Court)। পরিবর্তে সেই শুনানির নয়া দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। দেখার বিষয় সেদিন এই মামলার শুনানি হয় নাকি সেইদিনও মামলার দিন পিছিয়ে যায়।
আরও পড়ুন, টানা ১৫ মাস তিহাড়বাসের পরে জামিন পেলেন কেষ্ট দুহিতা সুকন্যা
এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চে চাকরি বাতিলের মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার অন্য অনেক মামলার শুনানি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। প্রধান বিচারপতি জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই মামলা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সে দিন অগ্রাধিকার দিয়ে এসএসসি মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের School Service Commission বা SSC’র নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেল চলতি বছরের ২২ এপ্রিল বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চের ওই রায়ের ফলে ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়।
আরও পড়ুন, TMCP’র ৫ চিকিৎসক পড়ুয়াকে Dis-Collegiate, চুরমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন
ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। সেখানে রাজ্য ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদও মামলা দায়ের করে। শীর্ষ আদালতে যান চাকরিহারাদের একাংশও। এদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার একত্রে এই সংক্রান্ত সব ক’টি মামলা শোনার কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চের। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তিকালীন স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর বেঞ্চ আগে চাকরি বাতিল মামলার সঙ্গে যুক্ত ৫ পক্ষের অর্থাৎ রাজ্য, এসএসসি, সিবিআই, মূল মামলাকারী এবং যাঁদের চাকরি নিয়ে বিতর্ক তাঁদের বক্তব্য শুনবে। তার পরেই এ ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশ দেবে। যদিও তার পর একাধিক বার শুনানির দিন পাল্টে চলেছে।