নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে সব জল্পনার অবসান। দেশের শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেলে থাকা অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। শনিবার (৩০ অগস্ট) রাত আটটা নাগাদ এসএসসির ওয়েবসাইটে ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, শিক্ষকদের মধ্যে মোট ‘দাগি’র সংখ্যা ১৮০৬। যদিও নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশের বিভাজন করা হয়নি। দাগি হিসাবে যাদের নাম রয়েছে তাঁদের পাশে পরীক্ষার রোল নম্বর থাকলেও যে স্কুলে তাঁরা কর্মরত সেই স্কুলের নাম নেই। তালিকায় অনেক তৃণমূল নেতা ও ঘনিষ্ঠদের নাম রয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে কুহেলী ঘোষের। তিনি আবার রাজপুর-সোনারপুরের তিনবারের তৃণমূল কাউন্সিলর। যদিও গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। কবে ওই তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি এসএসসির আধিকারিকরা ।
নিয়োগ দুর্নীতির জেরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। যার ফলে এক ধাক্কায় কাজ হারিয়েছিলেন ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশন। কিন্তু নিয়োগকারীদের মধ্যে যোগ্য ও অযোগ্য বাছাইয়ের পথ না থাকায় চলতি বছরের গত ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালতের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সঙ্গে পুরো প্যানেল বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় নিয়ে উষ্মাপ্রকাশও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্যানেল বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশন। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের যুক্তি ছিল, ‘প্রত্যেক স্কুল থেকে শিক্ষকদের বের করা হলে, শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্কটের মুখে পড়বে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত, চলতি শিক্ষাবর্ষ অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, শিক্ষকদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।’ ওই আর্জির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিহ্নিত অযোগ্য নন যাঁরা, তাঁরা স্কুলে ফিরতে পারবেন। গত ১৯ অগস্ট রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে দায়ের করা প্রায় ২০০টি রিভিউ পিটিশনের সব কয়টি আর্জি খারিজ করে দেয় বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ। বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার প্রকৃত ওএমআর শিট মিলছে না। সিবিআই এবং বাগ কমিটির তদন্তের ভিত্তিতে স্পষ্ট, যে দুর্নীতি হয়েছে।’ দেশের শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে চাকরিহারা সকলকে নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। ওই পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হলে তবেই স্কুলে চাকরিতে ফিরতে পারবেন।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ সেপ্টেম্বর এসএসসির নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের নামের তালিকা সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে।