নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধি কিংবা ভারতীয় সেনা সাহায্য না করলে বাংলাদেশ যে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারত না, তা নিয়ে সন্দেহ নেই ইতিহাসবেত্তাদের। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটির বেশি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি তাঁরই নির্দেশে বিএসএফ এবং ভারতীয় সেনার তরফ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কয়েক লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাকে। শুধু তাই নয়, অনভ্যস্ত পোশাক পরে (লুঙ্গি-জামা) ছদ্মবেশ ধরে মুক্তিযোদ্ধা সেজে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণও হারিয়েছেন অনেক ভারতীয় সেনা। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গিয়েছে ইন্দিরা গান্ধি ও ভারতীয় সেনার নাম।
কিন্তু শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে লেখার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দেশের পাঠ্যবই থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি ও ভারতীয় সেনার অবদান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা তথা পাকিস্তানের চর মুহাম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাক সেনার আত্মসমর্পণ সংক্রান্ত ছবিও বিভীন্ন পাঠ্যবই থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু যে ইন্দিরা গান্ধি কিংবা ভারতীয় সেনার অবদান বাদ যাচ্ছে তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিবর্তে ইসলামিক ইতিহাস পড়ানোর উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপকদের এ বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের মতে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধি ও ভারতের সেনার অবদান কী তা গোটা বিশ্ব জানে। তাই ইতিহাস থেকে তাদের বাদ দিলে বাস্তবকে অস্বীকার করা হবে। কোনও জাতি নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ের মূল ইতিহাস না জানলে বেশিদূর এগোতে পারবে না।’