নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য বিধানসভায়(West Bengal State Assembly) ইতিমধ্যেই পাশ হয়ে গিয়েছে ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’(Aparajita Bill 2024)। বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তা গিয়েছে রাজভবনে। নিয়মানুযায়ী, বিধানসভায় পাশ হওয়া যে কোনও বিল পাঠানো হয় রাজভবনে। সেই বিলে রাজ্যপাল স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হয়। কিন্তু বিল নিয়ে রাজ্যপাল(Governor of West Bengal)) যদি কোনও সিদ্ধান্তে আসতে না পারেন, বা কোনও পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে তা তিনি পাঠিয়ে দেন রাষ্ট্রপতির কাছে। সেই বিলের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপতিই। গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘অপরাজিতা বিল’ রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর আপাতত তা রাজভবনে পাঠানো রয়েছে। ব্যতিক্রমী ভাবে এই বিল দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দরবারেও পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। আর তারপরে পরেই সামনে আসছে, এই বিলেও সাক্ষর করতে চাইছেন না রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস(C V Ananda Bose)।
আরও পড়ুন, আবারও বিপত্তি বউবাজারে, মাটির নিচ থেকে জল বেরোচ্ছে দুর্গা পিতুরি লেনে
কোথায় আপত্তি রাজ্যপালের? দেশের এক সংবাদসংস্থার দাবি, অপরাজিতা বিল নিয়ে রাজ্যপালের আপত্তি এই যে, বিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’ পাঠানো হয়নি। রাজভবনের অভিযোগ, যে কোনও বিল রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়ার পরেই বাংলার সরকার এই আচরণ করে। যা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। অর্থাৎ, কোনও বিলের ক্ষেত্রেই ওই প্রয়োজনীয় রিপোর্টটি পাঠানো হয় না। ‘টেকনিক্যাল রিপোর্ট’ না পাঠিয়ে রাজ্য সরকার পরে বিল পাশ না হওয়ার জন্য রাজভবনের ওপর দোষারোপ করে। যা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী, ওই রিপোর্ট ছাড়া রাজ্যপাল কোনও বিলে সম্মতি দিতে পারেন না। ‘অপরাজিতা’ বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও কেন রাজ্য ‘হোমওয়ার্ক’ করেনি, কেন ওই রিপোর্ট বিলের সঙ্গে পাঠানো হয়নি, তা নিয়ে নাকি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। রাজভবন সূত্রে খবর, ধর্ষণ-বিরোধী বিলটিরও সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল। তাঁর মতে, এই বিল আসলে অন্যান্য রাজ্যের অনুরূপ বিলের ‘অনুকরণ’ মাত্র। একই ধরনের বিল আনা হয়েছে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশের মতো রাজ্যেও। এই ধরনের বিল রাষ্ট্রপতির দরবারে আটকে রয়েছে বলেও ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন, 3D Mapping’র পরেও সেমিনার রুমে মেলেনি সঞ্জয় ও নির্যাতিতার Foot Print
তবে এই বিলে রাজ্যপাল সাক্ষর না করলে তৃণমূলও যে ছেড়ে কথা বলবে না, সেটা আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী(Chief Minister of West Bengal) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন এই বিলে সই না করলে মেয়েরা রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে ঘেরাও করে রেখে দেবেন। তবে এখনই সেই পথে নামতে চাইছে না জোড়াফুল শিবির। অপরাজিতা বিলে রাজ্যপালের সই না করার প্রসঙ্গে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘যে হেতু রাজভবন বিলের ‘টেকনিক্যাল’ দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তাই এ ক্ষেত্রে যা বলার, স্পিকারই বলবেন। দলের এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।’ তবে ঘটনা এটা যে, বাংলার রাজ্যপাল এই বিলে সই করতে রাজী না হলেও দেশের একাধিক রাজ্যের বিজেপি বিরোধী নেতারা এই বিলকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এই বিলের মতোই বিল নিজ নিজ রাজ্যে আনার দাবিও তুলেছেন।