নিজস্ব প্রতিনিধি: আর জি কর-কাণ্ডের(R G Kar Incident) প্রতিবাদে ‘পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র সমাজে’র নামে নবান্ন অভিযানের(Nabanna Abhiyan) ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ঘটনাচক্রে সেই দিনই রয়েছে UGC’র NET পরীক্ষা। আর তাই নেট পরীক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে চিন্তা ছড়িয়েছিল যে সেই দিন তাঁরা সময়মতন পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেন কিনা তা নিয়ে। এই আবহে পরীক্ষার্থীদের বার্তা দিল রাজ্য পুলিশ। এদিন অর্থাৎ রবিবার সোশ্যাল মিডিয়াতে বার্তা দিয়ে নেট পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যন্ত সময়মতন পৌঁছতে নিশ্চিত করার বার্তা দিল রাজ্য পুলিশ(West Bengal State Police)। সেই বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৭ অগস্ট UGC-র NET পরীক্ষা রয়েছে, যাতে বহুসংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নেবেন। পরীক্ষা চলবে সকাল ৯:৩০ থেকে ১২:৩০, এবং বিকেল ৩টে থেকে ৬টা। ঘটনাচক্রে, পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ নামক একটি গোষ্ঠী ওই ২৭ তারিখই নবান্ন অভিযান-এর ডাক দিয়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এই কর্মসূচির কারণে অসংখ্য NET পরীক্ষার্থী তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে অসুবিধেয় পড়বেন। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ওই দিন রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা থাকবে। কোনওরকম অসুবিধেয় পড়লে পুলিশের সাহায্য নিন। আমরা নিশ্চিত করব, যাতে পরীক্ষার্থীরা নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে নিজের নিজের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন।’
আরও পড়ুন, বাস জট কাটাতে অবশেষে আদালতমুখী হচ্ছে রাজ্য সরকার, খুশি মালিকেরা
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন UGC’র NET পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় পরের দিনই পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২১ অগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের কথা। তার মধ্যে ২৬ অগস্টের জন্মাষ্টমীর ছুটি থাকার কারণে ওই দিনের পরীক্ষা বদল করে ২৭ অগস্ট (মঙ্গলবার) নেওয়া হবে। কিন্তু আর জি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে ওই একই দিনে আবার ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। তার জেরে যারা সাঁতরাগাছি হয়ে বা বিদ্যাসাগর সেতু হয়ে কিংবা হাওড়া স্টেশন ও হাওড়া ব্রিজ হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন তাঁরা সমস্যায় পড়েছিলেন। কিন্তু এখন পুলিশি বার্তার পরে তাঁরা কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হবেন। এদিকে নবান্ন অভিযানের অনেক বিষয় নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে পুলিশের অন্দরে। যারা এই অভিযানের ডাক দিয়েছেন, তাঁরা শুধু এইটুকু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কলকাতার কলেজ স্কোয়্যার এবং হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে দুপুর ১টায় হবে জমায়েত। এর পরে নবান্নের উদ্দেশে যাবে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দু’টি পৃথক মিছিল। সেই মিছিলে কত লোক হবে, কোন পথ ধরে মিছিল এগোবে সে ব্যাপারে কোনও ইঙ্গিতই এখনও পর্যন্ত মেলেনি।
আরও পড়ুন, ৩ কোটি ৬৪ লক্ষ ফেরত চাই, তবেই মিলবে ১০০ দিনের বকেয়া, বার্তা কেন্দ্রের
কার্যত কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের তরফে নবান্ন অভিযানের ডাক না দেওয়ায় বেশ কিছু বিষয় নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ। সেই অন্ধকার কাটাতে এবং ৭টি বিষয় জানতে পুলিশের তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে প্রবীর দাস, সায়ন লাহিড়ী ও শুভঙ্কর হালদারকে যারা গত দিয়েছেন নবান্ন অভিযানের ডাক নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন ও করেছিলেন। সেই নোটিসে পুলিশ জানিয়েছে, সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁরা এটা জানতে পেরেছেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ মঙ্গলবার মিছিলে যোগ দিতে আসবেন। জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন এলাকায় কার নেতৃত্বে জমায়েত হবে? মোট কত মানুষের জমায়েত হতে পারে? কোথা থেকে কোন পথ ধরে মিছিল নবান্নে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা? কেমন ভাবে এবং কত ক্ষণ ধরে এই কর্মসূচি চলবে? এরই সঙ্গে যোগদানকারীদের তালিকা এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে তা-ও জানতে চেয়েছে পুলিশ। আগে থাকতে যাতে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় তার জন্য কত গাড়ি সেই দিন জমায়েতের জন্য আসতে পারে তা-ও জানতে চেয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন, আর জি করের দুর্নীতির তদন্ত রবি সকালেই ৪ চিকিৎসক-আধিকারিকের বাড়িতে সিবিআই হানা
অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নবান্ন অভিযানে যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটাও নোটিসে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা রাজ্যের প্রধান সচিবালয় নবান্ন এলাকায় সব সময়েই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকে। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার কর্মসূচিতে যারা যোগ দেবেন তাঁরা যাতে আইন মেনে চলেন এবং শান্তি বজায় রাখেন সেই আর্জিও জানিয়ে রেখেছে পুলিশ। এই নোটিস পাওয়ার কথা স্বীকার করে শুভঙ্কর জানিয়েছেন, ‘আমাকে অনেক বার হাওড়া কমিশনারেটের তরফে ফোন করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠী স্বয়ং ফোনে কথা বলেছেন। আমি জানিয়ে দিয়েছি যে, আলোচনা করে আমরা খুব তাড়াতাড়ি পুলিশকে সবটা জানিয়ে দেব। তবে আমরা সবটা বলতে পারব না। কত মানুষের জমায়েত হবে, কত গাড়ি আসবে সেটা তো আমাদেরও জানা নেই। সমাজমাধ্যমে যে রকম সাড়া পাচ্ছি তাতে প্রচুর মানুষ আসবেন যে, সেটা বুঝতে পারছি কিন্তু পুলিশকে সংখ্যা বলতে পারব না। আমরা আগেই বলেছি আমাদের কোনও সংগঠন নেই। এটা ছাত্র সমাজের ডাকে সাধারণ মানুষের মিছিল। কোনও রাজনৈতিক দলের যোগদান থাকবে না। কেউ আসতে চাইলে দলীয় পতাকা ছাড়া আসতে পারেন। ফলে পুলিশের সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই। আমরা পুলিশের কাছে সাহায্য চাইব। তাঁরাই যেন আমাদের নবান্নে পৌঁছতে সাহায্য করে। কোন পথে যেতে হবে সেটা তারাই বরং বলে দিক। আমরা কোনও অশান্তি চাই না। পুলিশও যেন আমাদের ওপরে দমনপীড়ন মূলক আচরণ না করে।’
‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ মন্তব্যের জের, ক্ষমা না চাইলে মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি