নিজস্ব প্রতিনিধি : শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনী নিয়ে নানান মত রয়েছে। মনে করা হয় শ্রীকৃষ্ন হলেন ভগবান বিষ্ণুর নবম অবতার। পাপ নাশ করতে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। তবে এর আগেও ৮ বার ধরাধামে বিভিন্ন নামে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন তিনি।দ্বাপর যুগে কৃষ্ণ নামে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ।ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীত তিথিতে, বুধবার, রোহিণী নক্ষত্রে কারাগৃহে বন্দি মাতা দেবকীর কোল থেকে জন্ম নিয়েছিলেন কৃষ্ণ। আপনি কী জানেন কেন তিনি বুধবার, রোহিণী নক্ষত্রে জন্মগ্রহণ করেন, কেনই বা রাতকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি,কেন বাসুদেব ও দেবকীর ঘরেই জন্মগ্রহণ করলেন তিনি। তবে জেনে নিন শ্রীকৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্ত সম্পর্কে নানা বিষয়।
ঋষি কাশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী অদিতির কাহিনী : পৌরাণিক কাহিনি মতে, বাসুদেব ও তাঁর স্ত্রী দেবকী ছিলেন পূর্বজন্মে ঋষি কাশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি। পূর্বজন্মে ঋষি কাশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী অদিতির তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে নারায়ণ তাঁদের সম্মুখে প্রকট হয়ে বর চাইতে বলেছিলেন তাঁদের। ঋষি কাশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি বর চেয়েছিল যে, নারায়ণকেই নিজের পুত্র হিসেবে লাভ করতে চান। ফলে নারায়ন রাজী হয়ে ‘তথাস্তু’ বলেছিলেন।
তবে এই আশীর্বাদ দেওয়ার পরই চিন্তায় পড়ে যান শ্রীকৃষ্ণ। কারণ ত্রিভূবনে তাঁর মতো দ্বিতীয় কেউ নেই। তাই নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দেয় নারায়ণের মনে। কাশ্যপ ঋষির প্রার্থনা ও নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য পরবর্তী জন্মে তাঁদের পুত্র রূপে জন্মগ্রহণ করেন। তখন দেবমাতা অদিতি হলেন দেবকী ও কাশ্যপ মুনিই হলেন বাসুদেব।
চন্দ্রবংশে জন্ম নিয়েছিলেন কেন : জানা যায়,ত্রেতা যুগে রাম সূর্য বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যার ফলে সূর্য কখনও অস্ত যেতেন না। এতে চন্দ্র কষ্টে দিন কাটাতে শুরু করেন। রামকে নিজের কষ্টের কাহিনি শোনান চন্দ্র। তার পরই বিষ্ণু রূপী রাম তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, এই জন্মে তাঁর নামের সঙ্গে চন্দ্রের নাম যুক্ত হবে এবং পরবর্তী জন্মে চন্দ্রের বংশেই জন্ম গ্রহণ করবেন তিনি। নিজের আশীর্বাদের কারণে ত্রেতা যুগে রামের নাম হয় রামচন্দ্র। আবার পরবর্তী জন্মে বিষ্ণু চন্দ্রবংশে কৃষ্ণ রূপে জন্মগ্রহণ করে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন।
রোহিনী নক্ষত্র, অষ্টমী তিথি ও বুধবারে জন্ম নিয়েছিলেন কেন : চন্দ্রের প্রিয় স্ত্রী ছিলেন রোহিনী, আবার বুধ চন্দ্রের পুত্র। তাই চন্দ্রের প্রিয় রোহিনী নক্ষত্র এবং বুধের আধিপত্য যুক্ত বুধবারেই জন্মগ্রহণ করেন কৃষ্ণ। চন্দ্র রাতে উদয় হন এবং সেই সময় রাত ১২টা নাগাদই এই তিথি ও নক্ষত্র উপস্থিত ছিল। আবার অষ্টমী তিথিটি শক্তির প্রতীক। কৃষ্ণ সর্বশক্তিমান, স্বয়ম্ভূ। তাই তিনি মধ্যরাতে নির্দিষ্ট তিথি ও নক্ষত্র মেনে জন্মগ্রহণ করেন।