নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনীতিতে ডিগবাজি খেতে পারদর্শী তিনি। রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসে। দলের দুর্দিন আসতেই ডিগবাজি খেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছিলেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় রাজ্যসভায় দলের মুখ্যসচেতকের দায়িত্বও পেয়েছিলেন। যদিও সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে তেমন সরব হননি তিনি। বরং গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রেখে চলার খবর পৌঁছেছিল দলনেত্রী মমতার কানে। যে কারণে লোকসভা ভোটের পরেই সংসদীয় দল পুনর্গঠন করার ক্ষেত্রে রাজ্যসভায় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ধাক্কা হজম হয়নি সুখেন্দুশেখর রায়ের। আরজি কর কাণ্ডের শুরু থেকেই দলকে বিড়ম্বনায় ফেলতে কোমর কষে ঝাঁপিয়েছেন। বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে শনিবার আরজি কর কাণ্ডে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। আর ওই চিঠিকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। বিড়ম্বনায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুখেন্দুশেখর রায়ের এমন বিপ্লবী হয়ে ওঠার পিছনে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। দলের এক নেতার কথায়, ‘আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা চিকিৎসকের হয়ে সুবিচার চাওয়া বাহানা। আসলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করছেন সুখেন্দুশেখর রায়। তাই কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে সরাসরি সিবিআইকে চিঠি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানোর অস্ত্র বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছেন।’
তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব আরও মনে করছেন, বিজেপিতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করতেই আচমকা ‘বিপ্লবী’ সেজেছেন সুখেন্দুশেখর। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করলে রাজনৈতিক শহীদের তকমা পেয়ে সহানুভূতি কুড়োতে পারবেন বলে মনে করছেন। কিন্তু রাজ্যসভার সাংসদকে রাজনৈতিকভাবে শহীদ হওয়ার সুযোগ দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র সম্পাদকের পদ থেকে সুখেন্দুকে সরিয়ে দেওয়া হবে। কেননা দলীয় মুখপত্রে সরকার বিরোধী প্রতিবেদন কিংবা সম্পাদকীয় ছাপিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলার কোনও সুযোগ তাঁকে দিতে নারাজ তৃণমুল শীর্ষ নেতৃত্ব।