নিজস্ব প্রতিনিধি: আরজি কর কাণ্ড নিয়ে যখন উত্তাল গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক নির্দেশিকা কার্যত আগুনে ঘৃতাহুতি ফেলেছিল। ওই নির্দেশিকায় বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪২ চিকিৎসককে বিভিন্ন হাসপাতালে বদলির কথা জানানো হয়েছিল। নির্দেশিকার কথা জানতে পেরেই ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবিলম্বে ওই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের জন্য রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শনিবার বিকেলেই ওই ৪২ চিকিৎসকের বদলির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয় স্বাস্থ্যভবন।
আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তার মধ্যেই এদিন সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, আন্দোলনে জড়িয়ে থাকার অপরাধে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪২ চিকিৎসককে বদলি করেছে রাজ্য সরকার। বিজেপি-সিপিএম এবং তৃণমূল বিরোধী শিবিরগুলির তরফে সমাজমাধ্যমে প্রচার শুরু হয়, আন্দোলন ভাঙতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন অস্ত্র হাতে পেয়ে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাপবাপান্ত শুরু করে দেন সরকার বিরোধী নেটা নাগরিকরা। ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে।
সূত্রের খবর, বিষয়টি জানতে পেরেই রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে তীব্র তিরস্কার করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিরস্কারের পরে স্বাস্থ্য সচিব জানান, অনেকদিন আগেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার কারণে নির্দেশিকা জারিতে দেরি হয়েছিল। যদিও তাতে সন্তুষ্ট হননি মুখ্যমন্ত্রী। অবিলম্বে ওই বদলির নির্দেশিকা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এর পরেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয় স্বাস্থ্যভবন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যসচিব জানান, ‘রাজ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে ছয় হাজারের বেশি চিকিৎসক রয়েছেন। নিয়মিতই তাদের বদলি করা হয়। রুটিন মাফিক ৪২ চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছিল। আরজি করের ঘটনার আগেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে খানিকটা সময় লেগেছে। এর সঙ্গে আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। যেহেতু বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই ওই নির্দেশিকা বাতিল করা হচ্ছে।’