নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: টানা ১০ দিন বাদে রবিবার দুপুর তিনটে থেকে ফের দেশ জুড়ে চালু হয়েছে ৪জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। যদিও আগের তুলনায় ইন্টারনেটের গতি অত্যন্ত শ্লথ। ১০ দিন বাদে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হলেও ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, এক্স (পূর্বতন টুইটার)-সহ সমাজমাধ্যমগুলি বন্ধ রয়েছে। কবে থেকে ফের ওই সমাজমাধ্যমগুলি ফের সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি নির্ভেজাল মিথ্যাচারে অভিযুক্ত তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেসবুক-সহ সমাজমাধ্যম ব্যবহার করতে না পেরে অনেক ব্যবহারকারীই ভিন রাস্তা ধরেছেন। ভিপিএনের মাধ্যমে ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশ অগ্নিগর্ভ হওয়ায় গত ১৭ জুলাই মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে দেশ জুড়ে ৪জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল বিআরটিসি। আন্দোলন ঘিরে গুজব রুখতেই ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার। পরের দিন ১৮ জুলাই বুধবার রাত পৌনে নয়টা থেকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে পুরো দেশই ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ডিজিটাল যুগ ছেড়ে অ্যানলগ যুগে ফিরে গিয়েছিলেন গোটা দেশবাসী। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা (প্রিপেইড জল বিল, মোবাইল বিল, বিদ্যুৎ বিল) স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।
আন্দোলন দমাতে গত ১৯ জুলাই শুক্রবার রাত থেকে দেশ জুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি হয়েছিল। নামানো হয় সেনাবাহিনী। তাতে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতিও ঘটে। পাঁচ দিন ইন্টারনেট-বিহীন থাকার পর ২৩ জুলাই রাত আটটা থেকে থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়। পরের দিন ২৪ জুলাই সারা দেশেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা ফেরানো হয়। যদিও ইন্টারনেটের গতি অনেকটাই শ্লথ। গত কয়েকদিন ধরেই মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ফের চালুর দাবি উঠেছিল।