নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতার(Kolkata) বাজারে আলুর দর(Potato’s Market Price) কেজি প্রতি ৪০ টাকা পার করে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তা ঘুরছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। জ্যোতি আলুর দাম ঘুরছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে আর চন্দ্রমুখীর দাম ঘুরছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। এই অবস্থায় রাজ্যে মঙ্গলবার থেকেই অগ্নিমূল্য হতে পারে আলু। কেননা হিমঘর খোলা থাকলেও সেখান থেকে আলু বেরোচ্ছে না! আলু ব্যবসায়ীদের(Potato Traders) ডাকা কর্মবিরতির জেরে তাই বাংলার বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধির(Price Hike) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জোগান না বাড়লে মঙ্গলবার থেকেই অগ্নিমূল্য হতে পারে আলু। রাজ্যে আলুর দর নিয়ন্ত্রণে ভিনরাজ্যে আলু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকার। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে আলুর ট্রাক আটকে দিচ্ছে পুলিশ। তাতেই নষ্ট হচ্ছে আলু। ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এই অবস্থায় সরকারি চাপের মুখে পড়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। তার জেরেই আগামিকাল থেকে আলুর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, বাজারে জোগান বাড়িয়ে আলুর দাম কমাতে গিয়ে কোনও রকম লিখিত নির্দেশ ছাড়াই আলুবোঝাই ট্রাক রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে রাখা হচ্ছে। এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিমঘর খোলা হলেও, কর্মবিরতির কারণে আলু বার করা হয়নি। প্রতিদিন রাজ্যে ২০ হাজার মেট্রিকটন আলুর প্রয়োজন হয়। শনিবার শেষ হিমঘর থেকে আলু বেরিয়েছিল। সেই আলু সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তার পর কোথাও স্থানীয়ভাবে আলু মজুত থাকলে সেগুলো বিক্রি হবে চড়া দামে। বাজারে ইতিমধ্যে চড়তে শুরু করেছে আলুর দাম। চন্দ্রমুখি আলু অনেক জায়গায় কেজিতে ৪০ টাকা পার করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর প্রশাসনিক তৎপরতায় অন্য আনাজের দাম কমলেও আলুর দামে বিশেষ হেরফের হয়নি। দাম আরও বাড়লে তা আর সাধারণের সাধ্যের মধ্যে থাকবে না বলেই মনে করছেন ক্রেতারা।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার আলু ব্যবসায়ী কর্মবিরতিতে শামিল হয়েছেন। ২০১৪ সালে এ রকম হয়েছিল। ভিন রাজ্যে আলু যাওয়া আটকানো হয়েছিল। তবে এ বার নির্দেশ নেই। কিন্তু পুলিশি হয়রানি হচ্ছে রাজ্যের সীমান্তগুলিতে। মুখ্যমন্ত্রী বাইরে পাঠাতে বারণ করেননি। উনি নজরদারি করতে বলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর মিটিংয়ের পর থেকে আলুর দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। নিয়ন্ত্রণে থাকার পরেও যদি বাইরে আলু যাওয়া আটকানো হয়, তা হলে ব্যবসা করব কী করে। এ রকম আলুও থাকে, যেগুলি এ রাজ্যে বিক্রি হয় না। বিক্রি হয় বাইরের রাজ্যে। তা-ও আটকে দেওয়া হচ্ছে।’ যদিও প্রশাসনের দাবি, এক শ্রেণির আড়তদার অতিরিক্ত মুনাফা লুটছেন বলেই আলুর দাম সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে অসাধু আড়তদারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা দরকার। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উত্তম পালের হুঁশিয়ারি, প্রশাসন তাঁদের দাবি না মানলে কর্মবিরতি অনির্দিষ্ট কালের জন্য চলবে।