নিজস্ব প্রতিনিধি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকারের হাত ধরে দক্ষিণবঙ্গের(South Bengal) মানুষ এক বড় যোগাযোগ ব্যবস্থার সন্মুখীন হতে চলেছেন। কেননা হুগলির(Hooghly District) মগরার(Mogra) সঙ্গে প্রান্তের নদিয়ার(Nadia District) বড়জাগুলির(Borojaguli) সংযোগ স্থাপনকারী দ্বিতীয় ঈশ্বরগুপ্ত সেতুই(Second Iswar Gupta Bridge) হয়ে উঠতে চলেছে বাংলার মধ্যে দীর্ঘতম সেতু। ১৩৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মান এই সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটারেরও বেশি। ১৯৭৫ সালে তৈরি এ রাজ্যে ফরাক্কা সেতুই এখনও পর্যন্ত দীর্ঘতম হিসাবে গণ্য হয়। দ্বিতীয় ঈশ্বরগুপ্ত সেতু তৈরি হলে তা রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘতম সেতু হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের অর্থনীতির উন্নতির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা পালন করবে। কেননা এই সেতুর মাধ্যমে দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও কলকাতার সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। হুগলির মগরা, ত্রিবেণী, বাঁশবেড়িয়া, বড়পাড়া এবং নদিয়ার কল্যাণী, বড়জাগুলি-সহ আশপাশের এলাকায় শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রেও এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী পুলক রায় জানিয়েছেন, ‘ডেনমার্কের একটি সংস্থা দ্বিতীয় হুগলি সেতুর আদলে দ্বিতীয় ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর নকশা করেছে। এখানেও দুই প্রান্তের উঁচু পিলারের সঙ্গে থাকা কেবল সেতুটিকে টেনে ধরে রাখবে। পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছে খড়গপুর, চেন্নাই ও কানপুর আইআইটি৷ দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ নকশায় ভূমিকম্পের বিষয়টিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মোট ১৩৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি হচ্ছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ শেষ হবে। এই সেতু রাজ্যে পরিবহণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন হবে। জমি-জটে বছর দেড়েক কাজ থমকে ছিল। জট কেটেছে। কাজে গতিও এসেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আড়াই বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে।’
দ্বিতীয় ঈশ্বরগুপ্ত সেতু শুধু মগরার সঙ্গে বড়জাগুলির সংযোগ সাধনই করবে না, আশপাশের আরও এলাকাকে নানা মাপের উড়ালপুল দিয়ে যুক্ত করা হবে এই সেতুর সঙ্গে৷ উড়ালপুলগুলি হবে চার থেকে ছয় লেনের৷ সেতুটির সঙ্গেই সংযোগ গড়তে তৈরি হবে বাঁশবেড়িয়া রেল ওভারব্রিজও৷ ৩৫ মিটার চওড়া সেতুতে মোট ৬টি লেন হওয়ার কথা। বর্তমানে যে জায়গায় সেতুটি তৈরি হচ্ছে, তার ঠিক পাশেই রয়েছে পুরনো ঈশ্বরগুপ্ত সেতু। সেটি দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। এই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এলাকার অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন হবে বলে দু’পারের বাসিন্দারাই আশাবাদী। ২০১৬ সালে সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে দু’পারেই সংলগ্ন এলাকাগুলিতে জমির দামও বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়েরা। হুগলির দিল্লি রোড এবং গঙ্গার পূর্বে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের মধ্যেও সংযোগ স্থাপন করবে নতুন সেতু৷ নিবেদিতা ও দ্বিতীয় হুগলি সেতুর চাপও অনেকটা কমবে৷