আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বর্ণ বৈষম্য নিয়ে অপমানজনক ভাষায় ফ্রান্স দলকে নিয়ে গান গাওয়ার পর নিজেই অনুতপ্ত আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। শুধু তাই নয় প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইলেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে(ইনস্টাগ্রামের এক স্টোরিতে) এই নিয়ে ক্ষমা চেয়ে ফার্নান্দেজ জানিয়েছেন, ‘জাতীয় দলের উদযাপনে তাঁর ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এর জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছেন। তিনি বিষয়টির জন্য সত্যিই অনুতপ্ত।’ পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, কোপা আমেরিকা জয়ের আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সাফল্যের পর উন্মাদনা মাথায় চড়ে বসেছিল তাঁর।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই গানে রয়েছে অত্যন্ত অপমানজনক ভাষা এবং শব্দ। কিন্তু তিনি সব ধরনের বৈষম্যের বিপক্ষে। তাঁদের কোপা আমেরিকা উদযাপনের উন্মাদনায় পড়ে গিয়েছিলেন বলে ক্ষমা চান তিনি। তিনি বর্ণ বৈষম্যে বিশ্বাসও করেন না। তিনি এর জন্য সত্যিই দুঃখিত।
অবশ্য, ফার্নান্দেজ ক্ষমা চাওয়ার আগে এই ব্যাপারে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দেওয়ার এবং ফিফার কাছে অভিযোগ করার কথাও জানিয়েছে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)।
লাইভে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের বর্ণবাদী গানটির প্রথম দুই লাইন গাইতে শোনা গিয়েছিল। যেটি ছিল, ‘পাসপোর্টে তাঁদের ফ্রেঞ্চ জাতীয়তা, শোনা, কথাটি ছড়িয়ে দাও, তাঁরা ফ্রান্সে খেলে, কিন্তু তারা সবাই…।’ তবে এটুকুর পর কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘ভিডিয়ো বন্ধ করো।’ সেই বর্ণবাদী গানটির পরের লাইনগুলো ছিল, ‘..তারা ফ্রান্সে খেলে, কিন্তু তাঁরা সবাই অ্যাঙ্গোলা থেকে আসা, তাঁরা দৌড়ায় ভালো, লিঙ্গান্তরিত মানুষের সঙ্গে শোয়, তাদের মা নাইজেরিয়ান, তাঁদের বাবা ক্যামেরুনিয়ান, কিন্তু পাসপোর্টে বলা রয়েছে তাঁরা ফ্রেঞ্চ।’
এক লাইভ ভিডিওতে ফ্রান্সকে ঘিরে করা এই বর্ণবাদী গানটি শোনা গিয়েছিল। এমনকী সেই ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছিল ফার্নান্দেজের অ্যাকাউন্ট থেকে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স দলকে নিয়ে এই গানটি বানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। সেই সময় ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকার ও এখনকার অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও ছিলেন সে গানের লক্ষ্যবস্তু। যদিও এই ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে দেওয়ার পর ক্ষমা চেয়েছেন ফার্নান্দেজ।