নিজস্ব প্রতিনিধি: আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইয়ার্সে মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে ফিফা বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা এবং কলম্বিয়া। দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষ হলো ১-১ ড্র দিয়ে। কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হলো এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড। কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার কেভিন কাস্তানোর মাথা লক্ষ্য করে লাথি কষানোর দায়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এই ঘটনা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। চলুন, জেনে নিই পুরো ঘটনার বিস্তারিত।
শুরুতে কলম্বিয়ার আধিপত্য
ম্যাচের প্রথমার্ধে কলম্বিয়া দারুণ খেলেছে। তাদের তারকা খেলোয়াড় লুইস ডিয়াজ বাঁ দিক থেকে দুর্দান্তভাবে বল নিয়ে এগিয়ে যান। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি ভেতরে ঢুকে একটি দুর্দান্ত শটে গোল করেন। এই গোলের ফলে কলম্বিয়া ১-০ এগিয়ে যায়। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এই শট আটকানোর কোনও সুযোগই পাননি। এই গোল দেখে দর্শকরা হতবাক হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার পক্ষে লিওনেল মেসি চেষ্টা করেছিলেন সমতা ফেরাতে। তিনি দূর থেকে ফ্রি-কিক নেন, যা কলম্বিয়ার গোলকিপার বাঁচিয়ে দেন। বলটি নিকোলাস গঞ্জালেজের কাছে চলে যায়। কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মেসি এবং থিয়াগো আলমাদাও একসঙ্গে দারুণ খেলার চেষ্টা করেন, কিন্তু মেসির শটটি সামান্য বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা গোলের জন্য মরিয়া হলেও সফল হয়নি।
এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড
ম্যাচের ৭০ মিনিটে ঘটে যায় বড় ঘটনা। আর্জেন্টিনা তখন ১-০ পিছিয়ে। এনজো ফার্নান্দেজ বল ড্রিবল করতে গিয়ে একটি ভয়ঙ্কর ফাউল করেন। তিনি কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার কেভিন কাস্তানোর মাথায় লাথি মেরে বসেন। রেফারি জুয়ান গ্যাব্রিয়েল বেনিতেজ তৎক্ষণাৎ তাকে লাল কার্ড দেখান। ফলে আর্জেন্টিনাকে বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থকরা হতাশা হয়ে যান। এনজো তখনই কাস্তানোর কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি উঠে দাঁড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
থিয়াগো আলমাদার জাদু
এনজোর লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দ্রুত স্ট্র্যাটেজি বদলান। জিউলিয়ানো সিমিওনিকে মাঠে নামান দলকে চাঙ্গা করতে এবং এই পরিবর্তন কাজে দেয়! থিয়াগো আলমাদা, যিনি অলিম্পিক লিয়ন ক্লাবের খেলোয়াড়, ৮১ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরান। তিনি বক্সের কাছে বল পেয়ে দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত একটি গোল করেন। এটি ছিল তার দক্ষিণ আমেরিকা কোয়ালিফায়ার-এ তৃতীয় গোল। এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ১-১ সমতায় ফিরে আসে।
শেষ মুহূর্তের লড়াই
১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনা হাল ছাড়েনি। স্কালোনি শেষ দিকে থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে লিওনার্দো বালের্দি-কে নামান ডিফেন্স শক্ত করতে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা শেষ মুহূর্তে দারুণ কাজ করে। কলম্বিয়া বেশ কয়েকবার আক্রমণ করলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজ-এর দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং ডিফেন্সের কঠিন পরিশ্রমে তারা আর গোল করতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ড্র দিয়ে। কলম্বিয়াও তাদের দারুণ খেলার জন্য প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। লুইস দিয়াজ এবং জেমস রদ্রিগেজ মাঠে তাদের দক্ষতা দেখিয়েছেন। তবে তারা শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করায় জয় পায়নি।