পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের লীলা বোঝা দায়। বহু প্রতীক্ষিত আশার অবসান ঘটতে চলেছে আজ । দীর্ঘ ৪৬ বছর পর আবার খুলবে শ্রীমন্দিরের পবিত্র রত্ন ভান্ডার। জানা গেছে, রত্নভাণ্ডারের রত্নগুলি মেরামতের পাশাপাশি গণনাও করা হবে। একই সাথে মহাপ্রভুর মণি- মানিক্য, সোনা-রুপা , হিরে – জহরত ও অন্যান্য গহনার সংখ্যা, গুণমান, ওজন, ফটো ইত্যাদির একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্যাটালগও প্রস্তুত করা হবে। যা ভবিষ্যতের একটি রেফারেন্স নথি হিসেবে থাকতে পারে।
রত্নভাণ্ডার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রাক্কালেই মন্দিরের পুরোহিতরা লোকনাথের পূজা করবেন। এরপরই রত্নভাণ্ডার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে, রত্নভাণ্ডার খোলামাত্রই প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করবে সাপ ধরার দল। কারণ, প্রাচীন নিয়মানুসারে মহাপ্রভুর রত্নভাণ্ডার পাহাড়ায় মজুত রাখা হত একাধিক বিষধর সাপ। কারণ সনাতন ধর্ম মতে সর্প দেবতাকে সম্পদের রক্ষক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সেটি মাথায় রেখেই পেশাদার স্নেক ক্যাচারদের রত্নভাণ্ডার খোলার দলে বিশেষ ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের এই রত্নভাণ্ডার শেষবার খোলা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। তাই সুদীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা শ্রীমন্দিরের কোষাগার খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৮ সালের তালিকানুযায়ী রত্নভাণ্ডারে ছিল ১২৮ কেজি সোনা, ২২২ কেজি রুপো ও অন্যান্য দামি জিনিসপত্র। এছাড়াও সোনা-রুপার আরও জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলির মূল্যায়ন করা হয়নি।