নিজস্ব প্রতিনিধি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজারে আনাজপাতি বা শাকসবজির দাম(Price of Vegetables) কমাতে হবে। সেই বিষয়টি যথাযথ ভাবে পালিত হয়ে তার জন্য বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন টাস্ক ফোর্সকে(Task Force)। সেই জির্দেশের জেরে গতকাল অর্থাৎ বুধবার থেকেই কলকাতার(Kolkata) বাজারে বাজারে হানা দিচ্ছে সেই টাস্ক ফোর্স। গতকাল তাঁরা হানা দিয়েছিলেন ভিআইপি ও কোলে মার্কেটে। আর এদিন তাঁরা হানা দিলেন মানিকতলা বাজারে(Maniktala Bazar)। সেখানে বিভিন্ন সবজি বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে বাজারদর খতিয়ে দেখেন তাঁরা। কথা বলেন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। অতিরিক্ত মুনাফা করতে গিয়ে যাতে বেশি দামে শাকসবজি বিক্রি করা না হয়, তার জন্য একপ্রকার ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় টাস্ক ফোর্সের পক্ষ থেকে।
টাস্ক ফোর্সের প্রধান রবীন্দ্রনাথ কোলে এদিন রীতিমতো কড়া সুরে এক ব্যবসায়ীকে বলেন, ‘দাম কমিয়ে বিক্রি কর, এত বেশি লাভ কর না। বুড়ো বয়সে লকা-আপে থাকবে, ভালো লাগবে? কোনও কথা শুনবে না। যেমন কিনবে তেমন বিক্রি কর, অতিরিক্ত সুযোগ নিও না। বারবার বলছি, এসব করো না।’ বাজারে হানাদারির মাঝে এদিন সংবাদমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ কোলে জানান, ‘কিছু কিছু জিনিসে পাইকারি ও খুচরো বাজারে অনেক তফাত। যেমন ঢ্যাঁড়স ওখানে বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকায়, আর এখানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আমরা বলেছি, এমনটা চলবে না, দাম কমাতে হবে। উচ্ছে, করোলাও যে দামে বিক্রি করা হচ্ছে, তা কমানো যেতে পারে। কোলে মার্কেটে জিনিসপত্রের আকাল রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী যে দাম কমে যাবে। সমস্ত জেলার বাজারেও এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৩ মাসের দীর্ঘ ভোট পর্বে মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স ঘুমোচ্ছিল। গেরস্তের হাত পুড়লেও চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ক্ষোভ উদগিরণের পরে পরেই এখন বাজারে বাজারে চলছে টাস্ক ফোর্সের হানাদারি। দেখা যাচ্ছে, পাইকারি বাজারে যে শসা ৪০ টাকা কেজি, খুচরো বাজারে সেটাই খোলা বাজারে বিকোচ্ছে ১০০ টাকা দরে। আলু-পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও এক যদিও গতকাল থেকে পুলিশ-প্রশাসন বাজারে নামতেই কোথাও কোথাও দাম কমেছে আনাজের। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ-প্রশাসন বাজারে নামলে যদি অনিয়ম ধরা যায়, দাম কমে, তা হলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের জন্য অপেক্ষা কেন? আবার এদিন বাজারে ক্রেতারা সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, এখন হানাদারি হচ্ছে বলে কয়দিন দাম হয়তো কম থাকবে, কিন্তু তারপর যে কে সেই। আবার ও চড়া দামে হাত পুড়বে আমজনতার।