নিজস্ব প্রতিনিধি, মালবাজার: কথায় আছে বন্যেরা বনে সুন্দর। সত্যিই তো, বন্যেরা বনে সুন্দর। কিন্তু বর্তমান সময়ে একের পর এক জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে লোকালয়। তাই বন্যদেরও চলে আসতে হচ্ছে লোকালয়ে। তখন তাদের উপর পড়ছে দোষ। এই যেমন ধরুন মালবাজারে। সেখানে ডালভর্তি প্রেশার কুকার নিয়ে দৌড়ে পালিয়েছে এক হাতি।
সেবক পাহাড় লাগোয়া মহানন্দা অভয়ারণ্যের দশ মাইল রেঞ্জের গভীর জঙ্গলের ভিতরের বনচৌকিতে রান্না করছিলেন বনকর্মীরা। বনে সকলেই সকলের বন্ধু। তাই ডাল আলুসেদ্ধতেও যেন পিকনিকের স্বাদ। বেশ কয়েকজন মিলে খাওয়া হবে বলেই প্রেশার কুকারে তৈরি হয়েছিল ডাল। জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়েছিল গন্ধও। খাবারের গন্ধ পেয়ে আর থাকতে পারেনি বনেরই এক বাসিন্দা। সে আবার একটি হাতি।
হাতিটি আবার বুনো মাকনা, অর্থাৎ দাঁত নেই তাঁর। দাঁত না থাকলে খাওয়ার যে কী কষ্ট তা তো মানুষ মাত্রই জানে। তাই গন্ধবিচার করে সে বেছে বেছে এসে পৌঁছালো তরল ডালের কাছেই। আগে রান্নাঘরের জানলার ভিতর দিয়ে শুঁড় বাড়িয়ে নিয়ে নিল শাক, আলু, গাজর সহ সব সবজিপাতি। তারপরে শুঁড় বাড়িয়ে টুক করে প্রেশার কুকারটি।
প্রথমে বেশ কয়েকবার ঝাঁকিয়ে প্রেশারের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করেছিল হাতিটি। পারছে না দেখে আর সময় নষ্ট করেনি সে। কুকারটিকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে এক ছুটে সোজা জঙ্গলে। বনকর্মীদের প্রবল চিৎকার চেঁচামেচিতেও সে আর প্রেশার কুকার ফেরৎ দেয়নি।
বনকর্মীরা বলেছেন বছরের বিভিন্ন সময় হাতির উপদ্রব হয়। জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের রান্নাঘর, স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, দোকানে হানা দিয়ে পেট পুরে খাবার দাবার খেয়ে আবার জঙ্গলে পিঠটান দেন গজরাজরা। কিন্তু আস্ত প্রেশার কুকার তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
হাতির এমন কীর্তিতে হতবাক বনকর্মীরা। একবার যখন খোঁজ পেয়েছে আবার রান্নার গন্ধ পেলেই আসবে, এই ভয়ে বুধবার আর রান্নাই করেননি তাঁরা। তাই হরিমটরই ভরসা। সে তো নয় হল। কিন্তু এরপর কুকার না থাকলে কীভাবে চটজলদি রান্না হবে, তা নিয়ে বেজায় চিন্তার মধ্যে রয়েছেন বনকর্মীরা।