নিজস্ব প্রতিনিধি: মধ্যরাতে আর জি করে হামলা(Midnight Attack on R G Kar Medical College and Hospital) চালালো কারা? এই প্রশ্নই এদিন অর্থাৎ ১৫ অগস্টের(Independence Day) সকালে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবার মুখে মুখে। যদিও উত্তর অমিল। যদিও দোষারোপের ও পাল্টা দোষারোপের পালা চলছে। শাসকের দাবি, এই কাজ বিরোধীদের, আর বিরোধীদের দাবি, এই কাজ শাসকের। চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় যখন প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে ঠিক সে সময় হাসপাতালে আক্রমণ কি পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে? সেই প্রশ্নের উত্তরে কিন্তু শাসক-বিরোধী উভয়েই একমত। তাঁদের সকলের দাবি, যা হয়েছে তা রীতিমত পরিকল্পিত। ঘটনার জেরে গতকাল রাতেই কলকাতার পুলিশ(Kolkata Police) কমিশনার বিনীত গোয়েলের কাছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee) আর্জি জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের খুঁজে বার করতে হবে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই হামলার ঘটনায় ৯জনকে আটক(Detained) করা হয়েছে। যদিও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের মধ্যে অনেক মুখই চেনা। তারা আশেপাশের এলাকারই বাসিন্দা।
আরও পড়ুন, পুরো হাসপাতাল জ্বালিয়ে রোগীদের পুড়িয়ে মেরে ফেলা ছিল উদ্দেশ্য
আর জি করে হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ঠিক মধ্যরাত্রি অর্থাৎ বুধবার রাত ১২টা নাগাদ দখলের কর্মসূচি শুরু হয়। ঠিক তার পর পরই একদল উন্মত্ত ব্যক্তি আচমকাই পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালাতে থাকেন। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে হাসপাতাল চত্বরে তাণ্ডব চালায় রড ও লেঠেল বাহিনী। পরে ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। কয়েক জন পুলিশকর্মী জখমও হয়েছেন হামলাকারীদের ছোড়া ইটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীদের অনেকেই রাতের মিছিলে ছিল। সেখান থেকেই তারা হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। আর জি করের ঘটনায় ‘বিচার চাই’ বলেও স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল তাঁদের। হামলাকারীদের অনেকের গায়ে ‘We Want Justice’ লেখা টিশার্টও ছিল। প্রশ্ন, ‘বিচার চাই’ বলে স্লোগান তুলে তারা হাসপাতালে ভাঙচুর চালাতে গেলেন কেন? নাকি ভাঙচুর চালানোর উদ্দেশ্যেই আন্দোলনকারীদের ভেক ধরেছিল হামলাকারীরা? শুধু তা-ই নয়, হাসপাতালের ভিতরে যারা আন্দোলন করছেন, তাঁদের মঞ্চই বা ভেঙে দেওয়া হল কেন?
আরও পড়ুন, আর জি কর যেন যুদ্ধের ময়দান, তাণ্ডবে কার্যত ধ্বংস জরুরি বিভাগ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের কেউ কেউ হাফপ্যান্ট পরে এসেছিলেন। কেউ এসেছিলেন স্যান্ডো গেঞ্জি পরে। তা থেকেই অনেকের অনুমান, হামলাকারীরা কাছেপিঠেরই বাসিন্দা। তাঁদের অনেকের মুখ চেনা বলেও দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ। পুলিশের একাংশও মনে করছে, দমদম, টালা, সিঁথি ও দক্ষিণদাঁড়ি এলাকার কিছু লোকই এই কাজ করেছেন। শাসক শিবিরের জোর দাবি, রাজ্যের বিধানসভা থেকে বামেরা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও দমদম, টালা, সিঁথি ও দক্ষিণদাঁড়ি এলাকার তাদের কর্মী সমর্থক বেশ ভাল সংখ্যাতেই রয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভিন রাজ্য থেকে আমদানি করে গেরুয়া গুন্ডা। তারাই এই হামলা চালিয়েছে রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুলিশের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করতে। অন্য দিকে, গোটা ঘটনার দায় শাসক তৃণমূলের ঘাড়েই চাপিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর দলের গুন্ডারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে দমাতে চেয়ে। সেই সঙ্গে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের মামলার তদন্তভার যে হেতু সিবিআইয়ের হাতে গিয়েছে, তাই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য এ ভাবে হামলা চালানো হয়েছে।