নিজস্ব প্রতিনিধি: শীতকাল মানেই মেলায় ঘোরাঘুরি। আর সেই দিক দিয়ে সকলের মন জয় করে আছে বোলপুরের পৌষমেলা। এই মেলায় রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন। শুধু রাজ্য নয়, রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসেন এই মেলায়। তবে এই মেলা দেখার জন্য দূর-দূরান্তের মানুষেরা হোটেল থাকেন। এবার সেই বোলপুরে হোটেলেই পড়ল ভাটা।
জানা গিয়েছে, যে কয়েকটি হোটেল, লজ ফাঁকা রয়েছে সেগুলিতে চড়া দামে হাঁকছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। চাহিদার কথা মাথায় রেখে অনেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে হোটেলের রুম নিচ্ছেন। সুযোগ বুঝে অনেকে দুই বা তিনদিনের প্যাকেজ হিসেবে রুম ভাড়া দিচ্ছেন। এই ঘটনায় ভ্রমণপ্রিয় মানুষজন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। মূলত, রাঙাবিতান, শান্তবিতান সহ সরকারি গেস্টহাউসগুলি বুক হয়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন অনেক অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী। পর্যটকদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। যদিও হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, চাহিদার জন্য দাম বাড়ানো হয়নি। বরাবর বসন্ত উৎসব ও পৌষমেলায় প্যাকেজ সিস্টেমে ভাড়া দেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বোলপুরের শান্তিনিকেতনে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে রাজ্য সরকারের শান্তবিতান ও রাঙাবিতান গেস্টহাউস। সরকারি হওয়ার কারণে এই দু’টি হোটেলের সারা বছর সুনির্দিষ্ট ভাড়া থাকে, যা মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে। এই কারণে মেলার চারমাস আগেই সরকারি দু’টি হোটেলের সব রুম বুক হয়ে গিয়েছে। এই সুযোগেই বেসরকারি হোটেল মালিকদের একাংশ দাম চড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। বোলপুর হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রসেনজিৎ চৌধুরী বলেন, সারা বছর দারুণ ব্যবসা হয়, এমনটা নয়। সেজন্য আমরা পৌষমেলা ও বসন্ত উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। এই সময়ে হোটেলের ভাড়া বেশি থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও দু’দিনের প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। হোটেলের মান অনুযায়ী ভাড়া রাখা হয়েছে। দিন প্রতি তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া। প্যাকেজ অর্থাৎ দু’দিনের তা আরও বেড়ে দাঁড়ায়।
প্রসঙ্গত, বাঙালির আবেগ জুড়ে রয়েছে শান্তিনিকেতন। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট স্বীকৃতি পাওয়ার পর কবিগুরুর কর্মতীর্থের গুরুত্ব বেড়েছে। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা দেখতে রাজ্যের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থেকে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। মেলা প্রাঙ্গণে বাউল ফকির সহ লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট ও সতীপীঠ কঙ্কালীতলা। তার ওপর আবার শীতকালে উপরি পাওয়া হয় এই পৌষ মেলা। মূলত পৌষ মেলাকে সামনে রেখেই পর্যটকরা হোটেল বুক করেন। এবছর যেন সেই হোটেলেরই আকাল পড়েছে।